ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫


কাবা শরিফের কিছু অজানা তথ্য জেনে নিন

২০১৮ জুন ০৪ ১৬:৩৬:২২

বিজনেস আওয়ার ডেস্ক: মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মসজিদ মক্কার মসজিদ আল হারামের কেন্দ্রে আছে সবচেয়ে পবিত্র ঘর কাবা। একে আল্লাহর ঘরও বলা হয়। এর আরেক নাম আল কাবা আল মুশাররাফ। প্রতি বছর আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ছুটে যায় কাবায়। এই পবিত্র ঘরটির কিছু অজানা কথা জানি চলুন।

* কাবা ঘরের ঠিক উপরেই সপ্তাকাশে আছে আল্লাহর ঘর ‘বায়তুল মামুর’। যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা একসঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করেন। এমনটাই ইসলামে বর্ণিত আছে।

* মুসলিম বিশ্বের জনক হযরত ইব্রাহিম (আ.) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য দেখাতে উপাসনালয় হিসেবে প্রথম কাবা ঘর তৈরি করেন। তবে এখন সেই কাবা’র তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও শত্রুদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর একেকবার একেক যুগে এই স্থাপনাটি সংস্কার করা হয়। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে বড় ধরনের সংস্কার হয় কাবা ঘরটিতে। সে সময় আল্লাহ প্রদত্ত পবিত্র পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ কাবা’র কোন স্থানে রাখা হবে তা নিয়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। মহানবী সে আশঙ্কা দূর করে একটি চাদরের মাঝখানে রেখে তার চারপাশে গোত্র প্রধানদের ধরতে বলেন। এরপর হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করা হয় কাবা’র নির্দিষ্ট জায়গায়। সর্বশেষ বড় ধরনের সংস্কার হয় ১৯৯৬ সালে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাবা’র অনেক পাথর প্রতিস্থাপন করা হয়, ভিত্তি মজবুত করা হয় ও নতুন ছাদ তৈরি করা হয়। এতে করে কয়েকশ বছর কাবা ঘর অক্ষত থাকবে ধারণা করা হচ্ছে।

* কাবা ঘরটি গ্রানাইট পাথরে তৈরি। এটি প্রায় ৪৩ ফুট উঁচু, এর আয়তন ৩৬.২ ফুট বাই ৪২.২ ফুট। কাবা’র ভেতরের অংশ মার্বেল ও চুনাপাথরে তৈরি।

* আগে কাবা ঘরে প্রবেশের জন্য একটি ও বের হওয়ার জন্য আরেকটি সহ দুটি দরজা ছিল। একটি জানালাও ছিল। তবে এখন একটি মাত্র দরজা আছে কাবা ঘরে, এতে কোনো জানালা নেই।

* কাবা’র উপরে সোনালী কাজ করা যে কালো কাপড় মোড়ানো থাকে, তা কিশওয়া নামে পরিচিত। সৌদি শাসক বংশ আব্বাসীয়দের প্রিয় কালো রঙটি এখানে প্রাধান্য পেয়েছে। তবে আগে সাদা, সবুজ, লাল এসব রঙয়ের কিশওয়া পরানো হতো কাবা ঘরে।

* কাবা ঘরের চাবি সৌদি সরকারের কাছে নেই। কার কাছে জানেন? বনি সাইবা পরিবারের কাছে আছে এই চাবি। হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা জয় করার পর চাবি তার হাতে দেয়া হয়। আল্লাহর নির্দেশে তিনি তা নিজের কাছে না রেখে দিয়ে দেন বনি সাইবা পরিবারের ওসমান ইবনে তালহার কাছে। কেয়ামত পর্যন্ত চাবিটি এই পরিবারের কাছেই থাকবে, তেমন আশা ব্যক্ত করেন মহানবী।

* অতীতে সপ্তাহে দুদিন কাবা ঘর খুলে দেয়া হতো। এতে ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায়ের সুযোগ পেতো সাধারণ মানুষ। কিন্তু এখন সেখানে মানুষের অতিরিক্ত চাপ থাকায় বছরে দু’বার বিশেষ অতিথিদের জন্য খোলা হয়।

বিজনেস আওয়ার / ০৪ জুন / আর এইচ

উপরে