ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫


‘ঈদের লঞ্চ’ চলছে ‘মাস্টার’ ছাড়াই

২০১৮ জুন ১৪ ১৫:০৫:১৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক:নৌযান সার্ভেতে ভয়াবহ অনিয়ম হলেও কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। মাত্র চারজন সার্ভেয়ার দিয়ে চলছে সারাদেশের নৌযান। যাদের দুজন নিয়মিত আর বাকি দু’জন বদলি দায়িত্বে। অথচ বছরের পর বছর সার্ভেয়ার সংকট সমাধানে, নৌমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোন কাজই হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সার্ভেয়ার বৃদ্ধিই নয়, বিদ্যমান সার্ভে পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

এমএল দাড়াশিকো-১ লঞ্চটি উত্তাল মেঘনা পারি দিয়ে নারায়ণগঞ্চ থেকে চাদপুরের মতলব রুটে চলাচল করে। ১৯৮৯ সালে কাঠের তৈরি নৌযানটিকে ২০০৩ সালে ইস্পাতের রুপান্তর করা হয়। লঞ্চটি অবস্থা এতটাই নাজুক যে এতে চড়তে ভয় পান যাত্রীরা। ইস্পাত বলা হলেও এখনও অনেক অংশেই আছে কাঠ। লঞ্চটিতে নেই সনদধারী কোন মাস্টারও। অথচ একে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, নৌ পরিবহন অধিদপ্তর।

কয়েকজন যাত্রী বলছিলেন, নদীর মাঝখানে গেলে ঢেউ আসে। ঢেউয়ের পানি অনেক সময় লঞ্চের ওপরেও উঠে। ছোটো লঞ্চ যেতে ভয় লাগে।

একটা লঞ্চ চালাতে গেলে তো অনেক কিছু থাকা দরকার। কিন্তু কেন নেই- এমন প্রশ্নে এক সনদবিহীন এক লঞ্চ চালক বলেন, এটা তো কোম্পানির দেয়ার কথা। তারা না দিলে তো আমাদের কিছু করার নেই।

লঞ্চ তো মাস্টার চালানোর কথা। আপনি চালান কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বহুদিন ধরেই চালাচ্ছি।

শুধু তাই নয়, ৬৬ বছরের পুরনো জ্বরাজীর্ণ লঞ্চকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর। এমএল মুন্সীগঞ্জ লঞ্চটি ১৯৫৩ সালে কাঠে তৈরি হয়, যা ২০০৩ সালে স্টীলে রুপান্তর করা হয়। মাঝ নদীতে কখনো কখনো লঞ্চটির ইঞ্জিনের স্টার্টও বন্ধ হয়ে যায়। একই অবস্থা ১৯৭৩ সালে তৈরি আফসার উদ্দিনেরও। এমন করুন অবস্থার মধ্যে লঞ্চটি প্রতিদিন যাতায়াত করছে।

সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায় অনেক লঞ্চেই চড়তে ভয় পান যাত্রীরা। তাই ঢাকা থেকে পটুয়াখলীর রাঙ্গাবালী রুটের চলাচলকারী জ্বরাজীর্ণ লঞ্চগুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সদরঘাটে মানববন্ধন করেন ওই রুটে যাত্রীরা।

সার্ভে ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম জিইয়ে রেখেছে খোদ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর। সারা দেশে ১১,৪১৮টি নৌযান সার্ভের জন্য দু’জন নিয়মিত সার্ভেয়ার রয়েছেন। আর দু’জন বদলি দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় ২০১৭ সালে মাত্র ৬২৪০টি নৌযান সার্ভে সনদ নিয়েছে বাকি পাঁচ হাজারের বেশি নৌযান চলছে সনদ ছাড়াই। এছাড়া সারা দেশে কত নৌযান চলছে তারও কোন পরিসংখ্যান নেই নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কাছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সার্ভেয়ার বাড়ালেই সমস্যার সমাধান মিলবে না।

নৌশুমারি চালিয়ে দেশের নৌযান গুলোর তথ্য সংগ্রহের পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজনেস আওয়ার/ ১৪ জুন/ আর এইচ

উপরে