ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬


প্রতিবন্ধীকে হত্যার পর ধর্ষণ!

২০১৯ জুন ১২ ২২:০২:৫৪

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : প্রতিবন্ধী সাবিনা আক্তারকে (২১) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে সাইফুল ইসলাম (২৮)। সাবিনা বিয়ের আগে তাতে রাজি না হওয়ায় সাইফুল নিজের শার্ট খুলে সাবিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মারা যাওয়ার পর সাবিনার লাশকে ধর্ষণ করে সাইফুল।

গত ৮ জুন নরসিংদীর শিবপুরে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার (১২ জুন) নরসিংদী প্রেসক্লাবে এসব তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১১। আসামি সাইফুলকেও সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে র‍্যাব।

ঘটনার পরের দিন সাবিনার লাশ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর সাইফুলের দেওয়া তথ্য মতে নিহতের মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করে র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১ অধিনায়ক শমসের উদ্দিন জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সাবিনা আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় একই উপজেলার দুলালপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের।

এরপর সাবিনাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সাইফুল। গত ৮ জুন বিয়ে করার কথা বলে সাবিনাকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যায় সাইফুল। কিন্তু সাবিনাকে নিয়ে যায় পাশের কাজিরচর গ্রামের একটি কলাবাগানে।

সেখানে সাবিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা চালায়। বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে রাজি হননি সাবিনা। পরে সাবিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সাইফুল। হত্যার পর নিথর ওই দেহকে ধর্ষণ করে সে।

হত্যার পর সাবিনার মৃতদেহ ধর্ষণ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে তার ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে সাইফুল নিজ বাড়িতে চলে যায়। পরে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে বাড়ির টয়লেটে ও ভ্যানিটি ব্যাগটি বাড়ির পাশে একটি নর্দমায় ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় সে।

আসামি সাইফুলের দেয়া তথ্যমতে তার বাড়ি থেকে সাবিনার ভ্যানিটি ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও শ্বাসরোধে ব্যবহৃত শার্ট উদ্ধার করেছে র‌্যাব।ওই ঘটনায় নিহতের মা আফিয়া আক্তার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে শিবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

১১ জুন রাত ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে র‌্যাব ১১-এর একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাইফুলকে আটক করলে সে হত্যা ও ধর্ষণের বিস্তারিত বিবরণ দেয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে শিবপুর কলেজ গেট এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সাইফুল হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।

নিহত সাবিনার মা আফিয়া আক্তারের ভাষ্য, ৬ জুন বিকেলে এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সাবিনা। ওই বান্ধবীর বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে পাওয়া যায়নি।

দুই দিন পর নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশ শনাক্ত করা হয়। পরের দিন তিনি বাদী হয়ে শিবপুর থানায় মামলা করেন বলে জানালেন। তিনি মেয়ে হত্যার সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন।

বিজনেস আওয়ার/১২ জুন, ২০১৯/এ

উপরে