sristymultimedia.com

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬


রিকশা বন্ধে অনড় দুই সিটি কর্পোরেশন

১২:৫১পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : যানজট নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর তিন রুটে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এর ফলে এসব সড়কে যানবাহনের গতি কিছুটা বাড়লেও রিকশাচালক ও মালিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।

রিকশাচালক ও মালিকদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা করার পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়ক থেকে রিকশা তুলে দিলে তারা বিপদে পড়বেন। তবে দুই সিটি কর্পোরেশন তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

গত ৩ জুলাই ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন জানান, ৭ জুলাই থেকে রাজধানীর তিনটি রুটে রিকশা চলাচল করবে না। রুটগুলো হচ্ছে কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আসাদগেট-আজিমপুর ও সায়েন্সল্যাব-শাহবাগ।

তবে রিকশা বন্ধের প্রথম দিন থেকেই আন্দোলন শুরু করেন রিকশাচালক ও মালিকরা। তাদের দাবি, প্রধান সড়কগুলোতেও তাদের চলাচলের অনুমোদন দিতে হবে। না হয় তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। এভাবে রিকশা বন্ধ করে দিলে তাদের রুজিতে টান পড়বে।

তবে রিকশাচালক-মালিকদের এই দাবি মানতে নারাজ দুই সিটি কর্পোরেশন। সংস্থা দুটি বলছে, রাজধানীর প্রায় ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটারের মতো সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।

ফলে রিকশাচালকদের মূল কর্মক্ষেত্রে কমে যায়নি, পর্যাপ্ত রয়েছে। নগরীতে মেট্রোরেলসহ উন্নয়ন কাজের কারণে প্রধান একটি সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় যানজট নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানীর প্রধান সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ ধীরগতির যানবাহন রিকশা। পৃথিবীর কোনও শহরে এমন অবস্থা নেই।

আমরা অবৈধ যানবাহন বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে গঠিত কমিটি দুটি প্রধান রুটে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুরো শহর থেকে রিকশা উঠিয়ে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, এই শহরকে বাঁচাতে হবে। জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। সেজন্য জনগণের স্বার্থেই রিকশা বন্ধ করা হয়েছে।

ডিএসসিসি মেয়র আরওবলেন, কিন্তু কিছু কিছু ব্যক্তি রিকশাচালকদের সামনে রেখে পরিস্থিতি উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় অবস্থানে আছি। ওই রুটগুলোতে রিকশা চলতে দেওয়া হবে না।

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, রাজধানী ঢাকার মূল সড়কে রিকশা চলাচল করতে পারবে না। যেসব সড়কে বাইলেন রয়েছে সেখানে বাইলেন দিয়েই রিকশা চলবে। আমাদের আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে।

রিকশা বন্ধ করায় সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যানবাহনে গতি কিছুটা ফিরেছে উল্লেখ করে বাসচালকরা জানান, রিকশার কারণে সড়কে যানজট ছিল। এখন যানবাহনের গতিও ফিরেছে, ট্রিপও বেশি দেওয়া যাচ্ছে। ফলে যাত্রীদের স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে।

তুরাগ পরিবহনের একটি বাসের চালক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, রিকশা না থাকায় গতি দিয়ে বাস চালাতে পারছি। রিকশাচালকরা তাদের ইচ্ছেমতো রিকশা চালানোর কারণে জানজটের সৃষ্টি হয়। তারা যাত্রীর জন্য যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকে।

এই বাসচালক বলেন, আগে যেখানে কুড়িল থেকে যাত্রাবাড়ী পৌঁছাতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগতো, সেখানে এখন এক ঘণ্টার কম সময়ে যাওয়া যাচ্ছে।

জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী বলেন, আমরা বলছি রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত ও অবৈধ রিকশা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে রিকশামালিকদের মাঝে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের নামে প্লেট-টোকেন সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এভাবে হঠাৎ করে রিকশা বন্ধ করলে চালকরা কোথায় যাবে?

জানা গেছে, ২ সিটিতে লাইসেন্সধারী রিকশা রয়েছে ৮০ হাজার ৪৭৩টি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে ৫২ হাজার ৭৫৩ এবং উত্তরে ২৬ হাজার ৭২০টি। তবে রাস্তায় রিকশা চলাচল করে ৮ লাখের বেশি।

বিজনেস আওয়ার/১১ জুলাই, ২০১৯/এ

উপরে