ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬


কৃষকদের ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংক

২০১৯ জুলাই ২৩ ১৬:৫১:৫৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দারিদ্র বিমোচন ও ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২৪,১২৪.০০ (চব্বিশ হাজার একশত চব্বিশ) কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০.৬৬ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ এ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নীতিমালায় বলা হয়, কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের জন্য ১০,৩৭৫.০০ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের জন্য ১৩,৭৪৯.০০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকসমূহ মোট ২৩,৬১৬.২৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৮.৩৩%। বিগত অর্থবছরে মোট ৩৮,৮৩,৪২৪ জন কৃষক কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকসমূহের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৬,০১,৮৫৬ জন নারী প্রায় ৭,১৯০.৫৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন।

উক্ত অর্থবছরে ২৯,৮৯,২৩৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬,৩২২.৮৭ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৯,৯৫০ জন কৃষক প্রায় ৩১.৬১ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং কৃষকদের নিকট কৃষি ঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু সময়োপযোগী বিষয় সংযোজিত হয়েছে।

এই নীতিমালার উল্লেখযোগ্য নতুন সংযোজিত বিষয়সমূহ হচ্ছেঃ

এমএফআই লিংকেজের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে ব্যাংকসমূহকে নিজস্ব শাখা এবং এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান; কাজুবাদাম চাষে ঋণ প্রদান; রাম্বুটান চাষে ঋণ প্রদান; কচুরিপানার ডাবল বেড পদ্ধতিতে আলু চাষে ঋণ প্রদান; ১ টাকা হতে যে কোনো অংকের সকল বকেয়া শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হবে কিন্তু নতুন মঞ্জুরি বা নবায়নের জন্য ২.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না; ঋণ পরিশোধের স্বাভাবিক সময়সীমা (বীজ উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের জন্য) সংযোজন; শস্য/ফসল খাতে ঋণ বিতরণের জন্য একর প্রতি ঋণ সীমা যৌক্তিক পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ; গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল ও ভেড়া পালনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন; বাণিজ্যিকভাবে রেশম উৎপাদনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন; এটুআই কর্তৃক গৃহীত কৃষি ও পল্লী ঋণ সহজীকরণ সিস্টেমটির পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন।

বিজনেস আওয়ার/২৩ জুলাই,২০১৯/ আরআই

উপরে