ঢাকা, রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬


অবমূল্যায়িত বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ

২০১৯ জুলাই ২৪ ১১:১৭:২৫

রেজোয়ান আহমেদ: গত কয়েক মাসের পতনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর তলানিতে নেমে এসেছে। বর্তমানে অসংখ্য কোম্পানির শেয়ার দর যোগ্যতার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। এ তালিকা থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু চিপস কোম্পানিগুলোও বাদ যায়নি। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের এমন পতন শেয়ারবাজারকে অবমূল্যায়িত অবস্থানে নিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের জন্য অনেক সুযোগ তৈরী হয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দেখা গেছে, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫৯৫০ পয়েন্ট। যা ২৩ জুলাই কমে দাড়িঁয়েছে ৫০৭৮ পয়েন্টে। অর্থাৎ ৬ মাসে সূচক কমেছে ৮৭২ পয়েন্ট বা ১৪.৬৫ শতাংশ। এই পতনের ফলে সূচকটি বিগত আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। একইসঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর তলানিতে নেমে এসেছে।

শেয়ারবাজারে মৌলভিত্তি কোম্পানি আলাদাভাবে চিহ্নিত করার জন্য ডিএসই-৩০ নামে সূচক রয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচকটি বিভিন্ন বিবেচনায় বাজারের সেরা ৩০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠন করা হয়। তবে শেয়ারবাজারের চলমান অস্থিরতায় গত ৬ মাসে ব্লু চিপস কোম্পানিও পতন থেকে রেহাই পায়নি। ৩০টি ব্লু চিপস কোম্পানির মধ্যে ২৯টি বা ৯৬.৬৭ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, এখন শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত। ফলে এখন বিনিয়োগের অনেক সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের বিনিয়োগকারীরা সেদিকে কেনো এগোচ্ছে না, সেটা আমার কাছে পরিস্কার না। সমস্যা হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মানসিকতা। কয়েকজন বিক্রি শুরু করলেই অন্যরা বিক্রি শুরু করে। বিনিয়োগকারীদের এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে, চলমান পরিস্থিতি ঠেকানো বেশ মুশকিল। তাদের বিচার বিশ্লেষন করে বিনিয়োগ করা উচিত।

আরও পড়ুন.....
শেয়ারবাজারে আসছে ব্যাংকের বিনিয়োগ

বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বর্তমান শেয়ারবাজারকে অবমূল্যায়িত বলা যায়। এই বাজারে অবশ্যই বিনিয়োগ করার মতো পরিবেশ আছে। তবে বাজারকে একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে হবে। না হলে যদি পড়তেই থাকে, তাহলে বিনিয়োগকারীরা মনে করবে আরও পড়বে। তখন বিনিয়োগ করতে চাইবে না।

নিম্নে গত ৬ মাসের ব্যবধানে ডিএসইর সেরা ৩০ কোম্পানির দর পতনের চিত্র তুলে ধরা হল-

কোম্পানির নাম

৬ মাস আগের দর (টাকা)

২২ জুলাইয়ের দর (টাকা)

পার্থক্য

পিই

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স

২৮.৭০

১৬.৭০

(৪২%)

৩৪.৭৯

ইফাদ অটোস

১০২.৯০

৬৭.৪০

(৩৪%)

১২.০১

বেক্সিমকো

২৫.৬০

১৭.৫০

(৩২%)

১০.৮৫

ন্যাশনাল ব্যাংক

১১.৮০

৮.২০

(৩১%)

১২.৮১

আইডিএলসি

৭৯.২০

৫৭.৪০

(২৮%)

৯.৭

ব্র্যাক ব্যাংক

৮৩.১০

৬১.২০

(২৬%)

১২.৫৪

একটিভ ফাইন কেমিক্যাল

২৯

২১.৮০

(২৫%)

৬.৯৩

একমি ল্যাবরেটরিজ

৯০.৯০

৬৯.২০

(২৪%)

৯.৫৬

কনফিডেন্স সিমেন্ট

১৭৭.৭০

১৩৪.২০

(২৪%)

২২.৬

সিটি ব্যাংক

৩৪.৪০

২৬.৪০

(২৩%)

৮.৩৫

বিএসআরএম লি:

৮০.৫০

৬৩

(২২%)

৮.৬৫

লাফার্জহোলসিম

৪৫.৩০

৩৬.১০

(২০%)

২৯.১১

বাংলাদেশ সাবমেরিন

১২৫.৬০

১০২

(১৯%)

৩০.৯৭

ইসলামী ব্যাংক

২৭.৯০

২২.৬০

(১৯%)

১৪.১৩

গ্রামীণফোন

৩৯১.৫০

৩২২.৫০

(১৮%)

১২.০৬

ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স

১১১.৪০

৯১.১০

(১৮%)

বিবিএস কেবলস

১০৬.৮০

৮৮.৪০

(১৭%)

৮.২৭

সিঙ্গারবিডি

২৩৩.৭০

১৯৫.৩০

(১৬%)

৩০.৫২

এমজেএলবিডি

১০০.৫০

৮৭.৫০

(১৩%)

১৫.১৬

মেঘনা পেট্রোলিয়াম

২১০.২০

১৮৬.৮০

(১১%)

৬.৫১

সামিট পাওয়ার

৪২.৮০

৩৮.৩০

(১১%)

৮.০৭

অলিম্পিক

২৪৬.৫০

২২১.৯০

(১০%)

২৩.৮৮

বেক্সিমকো ফার্মা

৮৭.১০

৭৯.৪০

(৯%)

১০.৮১

ইস্টার্ন ব্যাংক

৪০.৯০

৩৭.১০

(৯%)

৭.৯৩

ইউনিক হোটেল

৫৩.১০

৪৯.৫০

(৭%)

২০.৭৪

স্কয়ার ফার্মা

২৬৭.০

২৪৭.৬০

(৭%)

১৫.৫৭

তিতাস গ্যাস

৩৯.২০

৩৭.৫০

(৪%)

৯.৭২

রেনেটা

১১৪৬.৭০

১১৭৮.৯০

(৩%)

২৮.১৮

ইউনাইটেড পাওয়ার

৩৬৮.৭০

৩৭৫.১০

২%

২১.৮৪

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন সবাইকেই হতে হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে হতাশ না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অবমূল্যায়িত বাজারে নিজেদের পোর্টফোলিওকে পূণ:গঠন করার সুযোগ তৈরী হয়। এর মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। তাই কারও কান কথায় কান না দিয়ে ও কাউকে দোষারোপ না করে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালক ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। যা শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শেয়ারবাজার কখনো এক জায়গায় স্থিতিশীল থাকে না। এখন শেয়ারবাজার তলানিতে ও একদম নিম্ন পর্যায়ে আছে। এখান শেয়ারবাজার উপরের দিকে যাবে। তাই এই পর্যায়ে যারা বিনিয়োগ করবে, তারা নিশ্চিত লাভবান হবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজার বহু আগে থেকেই অবমূল্যায়িত। ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরের ভয়াবহ তারল্য সংকটের ধারাবাহিকতায় বাজারের এই করুণ পরিণতি। বাজারে টাকার অভাব প্রকট।

বিজনেস আওয়ার/২৪ জুলাই, ২০১৯/আরএ

উপরে