ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬


অবকাশ যাপনে দায়িত্বশীল, দায়িত্বহীনতার দর্শন ও মশা আতঙ্কে বাংলাদেশ!

২০১৯ আগস্ট ০৪ ১৫:৩০:৪২

মশা অতি ক্ষুদ্র একটি প্রাণী। ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি আজ থেকে প্রায় দুই মাস আগেই সংকেত দিয়েছিল এবারে ডেঙ্গুর প্রকোট হবে খুবই ভয়াবহ। কিন্তু মশা নির্মূল করার ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বহীন ভাবে নিয়েছিল।

মশা নিধন করার জন্য যে ওষুধ ছিটানো হয়েছিল বা ছিটানো হচ্ছে সেটাও কার্যকরী নয়। ওষুধে মরছে না মশা, এমনকি কোন কোন স্থানে ওষুধ ছিটানোর পরে মশার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঢাকা শহরে এই প্রথমবারের মতো দেখা গেল মশায় অতিষ্ঠ হয়ে নগরবাসী স্থানীয় কমিশনারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ঘটেছে বলে মনে হয় না!

হাইকোর্ট বলেছে মশা নির্মূলে দুই সিটি কর্পোরেশন চরম ব্যর্থ।মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় তিনি তো বিদেশ ভ্রমণের আগে বলেছিলেন মশার উৎপাদন রোহিঙ্গাদের সন্তান উৎপাদনের মত,সুতরাং মশার উৎপাদন রোধ করা আমাদের পক্ষে অনেক কঠিন।

মেয়র মহোদয় বলেছিলেন, আপনারা কেউ গুজবে কান দিবেন না ডেঙ্গুর কোন ভয়াবহতা আমাদের দেশে নেই, দেশ দ্রোহী, কুচক্রীদের ছড়ানো গুজব।এই হচ্ছে আমাদের বর্তমান অবস্থা, দেশের সাধারন মানুষ দিশেহারা, আতঙ্কিত, বর্তমানে বন্যার পানিতে ভাসছে দেশ, আক্রান্ত মানুষ। সেইসাথে হানা দিয়েছে মশা, রাজনীতিবিদরা মানুষের জীবনকে নিয়ে করছে রাজনীতির খেলা।

মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাহেব তিনি এক মহতী উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ডেঙ্গু যেহেতু মহামারী রূপ ধারণ করেছে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করার জায়গা নাই। প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো ব্যবসার রামরাজত্ব খুলে নিয়েছে,তাই মহামান্য মন্ত্রী সাহেব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করলেন, এমনকি ঈদের ছুটিকেও নিরুৎসাহিত করলেন।

যাতে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা সঠিক সেবা পায় কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয মন্ত্রী সাহেব কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে বললেন, তিনি তার নিজের এলাকায় বন্যা দুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য গিয়েছেন, অন্য আরেক জন কর্মকর্তা বলেছিলেন তিনি তো আমাদের সাথেই আছেন, আরেক জন কর্মকর্তা বলেছিলেন তিনি তো সবকিছুই তদারকি করছেন, পরে জানা গেল তিনি গেছেন সপরিবারে মালয়েশিয়ায় অবকাশ যাপনে। কি অদ্ভুত স্ববিরোধিতা!

চরম দায়িত্বহীন, অপারগতা, ব্যর্থতার কারনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। কোথা থেকে ওহী নাযিল হলো তিনি তার সফর শেষ না করেই বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক এক টার দিকে বিমানে করে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় ফিরলেন। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল"বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন কিন্তু অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত করা হলো।

পরবর্তীতে মন্ত্রী মহোদয় এবং দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সচিব মহোদয় সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন তখন সাংবাদিকদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করেছিলেন দেশের এই পরিস্থিতি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনি কেন দেশের বাইরে, তখন তিনি সাংবাদিককে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিয়েছিলেন তার সচিব সাংবাদিককে প্রশ্ন করতে বিরত রাখলেন। এই হচ্ছে আমাদের মহা দায়িত্ব পালনকারী মাননীয় মন্ত্রী।

এদেশের মানুষ সত্যি কারের জনগণের সেবক চাই কোন ক্ষমতাবান মন্ত্রী নয়। মন্ত্রী নামক জমিদারি প্রথা এদেশের মানুষ প্রজা হিসেবে মেনে নিতে পারে না।এদেশের মানুষের কারণেই তো আজকে সে সংসদ সদস্য। তাকে মনে রাখতে হবে একজন মন্ত্রী জনগণের অভিভাবক ও সেবক বিপদের সময় জনগণের পাশে যদি সেই সেবককে না পাওয়া যায়, তবে তেমন সেবক এই জনগণের দরকারই কী? আমাদের দেশের দায়িত্ববান সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী সহ সকল জনপ্রতিনিধিরা জনগণের সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক।

লেখক- মোঃ সবুর মিয়া, বেসরকারি চাকরিজীবী

বিজনেস আওয়ার/০৪ আগস্ট, ২০১৯/এ

উপরে