ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬


ব্যাংকগুলোর মূলধনের সঙ্গে মুনাফা বেড়েছে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা

২০১৯ আগস্ট ০৫ ১০:১৪:১৩

রেজোয়ান আহমেদ : আগের বছরের থেকে ২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ হাজার কোটি টাকা বা ৮ শতাংশ। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোর আগের বছরের তুলনায় ২০১৯ সালের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) ব্যবসায় নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা বা ২৭ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর ২০১৯ সালের প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত সমন্বিত আর্থিক হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৮ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৮৬০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যা চলতি বছরে ঘোষিত বোনাস শেয়ারে বেড়ে দাড়িঁয়েছে ৩০ হাজার ৯৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ২৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মূলধনের পাশাপাশি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ২৭ শতাংশ। ব্যাংকগুলোর চলতি বছরের প্রথমার্ধের ব্যবসায় ৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছে। যার পরিমাণ ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে হয়েছিল ২ হাজার ৭৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

পূবালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ হালিম চৌধুরী জানিয়েছেন, অনেক খেলাপি ঋণ আদায়ের কারনে চলতি বছরের প্রথমার্ধে অধিকাংশ ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলো এখন অনেক কমপ্লায়েন্ট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সব নির্দেশনা মেনে চলে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবীদ এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলোর মুনাফায় এই উত্থান কিভাবে হয়েছে, সেটা আমার কাছে বোধগম্য না। কারন একদিকে ব্যাংকগুলো বলছে তাদের তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের মাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে মুনাফা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয় প্রভিশনিং ঘাটতি ও ট্যাক্স কম দেখানো হয়েছে কিনা। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদেরকে শুধু মুনাফা না দেখে, অন্যান্য সূচক (ইন্ডিকেটর) যাছাই করে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও প্রভিশনিং ঘাটতি আছে কিনা, তা দেখতে হবে। শুধুমাত্র একটি ইন্ডিকেটর দেখে বিনিয়োগে যাওয়া উচিত না।

দেখা গেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০১৯ সালের প্রথমার্ধে ২৫টি বা ৮৩.৩৩ শতাংশ ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে। আর ১টি বা ৩.৩৩ শতাংশ ব্যাংকের লোকসান কমেছে। বাকি ৪টি বা ১৩.৩৩ শতাংশ ব্যাংকের মুনাফা কমেছে।

তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৩০ কোটি ৫ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। এরপরে ২৬০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৫৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে একমাত্র আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লোকসান করে সবার তলানিতে রয়েছে। ব্যাংকটির ১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এরপরে সবচেয়ে কম মুনাফা হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের। এ সময় ব্যাংকটির ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। আর ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রূপালি ব্যাংকের ও ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন মুনাফা হয়েছে এবি ব্যাংকের।

নিম্নে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ তুলে ধরা হল। ব্রাকেটে () থাকা হিসাবকে ঋণাত্মক বোঝানো হয়েছে।

ব্যাংকের নাম

২০১৯ সালের প্রথমার্ধের মুনাফা (টাকা)

২০১৮ সালের প্রথমার্ধের মুনাফা (টাকা)

পরিশোধিত মূলধন (টাকা)(২০১৯)

পরিশোধিত মূলধন (টাকা)(২০১৮)

ইসলামী ব্যাংক

৩৩০.০৫ কোটি

৩০২.৭৫ কোটি

১৬১০ কোটি

১৬১০ কোটি

সাউথইস্ট ব্যাংক

২৬০.৯৯ কোটি

১৫৮.৯৭ কোটি

১১৫৯.৯৪ কোটি

১০৫৪.৪৯ কোটি

ব্র্যাক ব্যাংক

২৫৩.৪৩ কোটি

২৫৩.৪১ কোটি

১২৩৩.৩৮ কোটি

১০৭২.৫০ কোটি

পূবালি ব্যাংক

২২২.২৮ কোটি

২১৬.৫৮ কোটি

১০২৮.২৯ কোটি

৯৯৮.৩৪ কোটি

দি সিটি ব্যাংক

১৯৪.১৩ কোটি

১৩৮.৯৭ কোটি

১০১৬.৩৯ কোটি

৯৬৭.৯৯ কোটি

ডাচ-বাংলা ব্যাংক

১৯১.৫০ কোটি

১৬২.৫২ কোটি

৫০০ কোটি

২০০ কোটি

মার্কেন্টাইল ব্যাংক

১৬৭.৭৫ কোটি

১১২.৬৯ কোটি

৯৩৭.১৬ কোটি

৮১৪.৯২ কোটি

ইস্টার্ন ব্যাংক

১৫৮.৩০ কোটি

১৩৪.৮৮ কোটি

৮১১.৮০ কোটি

৭৩৮ কোটি

আইএফআইসি ব্যাংক

১৪৮.৭১ কোটি

৫৭.০৬ কোটি

১৪৭২.৬১ কোটি

১৩৩৮.৭৪ কোটি

যমুনা ব্যাংক

১৩৩.৩৬ কোটি

১০৭.৯৪ কোটি

৭৪৯.২৩ কোটি

৭৪৯.২৩ কোটি

ইউসিবি ব্যাংক

১৩৩.৩৫ কোটি

১১১.১৭ কোটি

১১৫৯.৫৪ কোটি

১০৫৪.১৩ কোটি

ব্যাংক এশিয়া

১২৩.৫৯ কোটি

১২১.৬৮ কোটি

১১৬৫.৯১ কোটি

১১১০.৩৯ কোটি

প্রিমিয়ার ব্যাংক

১২৩.৪৫ কোটি

৭৭.৩২ কোটি

৯২৪.০৯ কোটি

৮০০.০৮ কোটি

এনসিসি ব্যাংক

১১৫.৫৮ কোটি

৮৮.৪৩ কোটি

৯২৭.৩৮ কোটি

৮৮৩.২২ কোটি

ন্যাশনাল ব্যাংক

১১০.৪৭ কোটি

১৩২.৯৩ কোটি

২৯২০.৪০ কোটি

২৬৫৪.৯১ কোটি

ট্রাস্ট ব্যাংক

১০৮.৪৪ কোটি

৬০.১২ কোটি

৬১২.৬৬ কোটি

৫৫৬.৯৭ কোটি

শাহজালাল ব্যাংক

১০৫.১২ কোটি

৭৭.৭৫ কোটি

৯৩৩.৪২ কোটি

৮৪৮.৫৭ কোটি

উত্তরা ব্যাংক

১০২.০২ কোটি

৫৫.২৬ কোটি

৪০৮.০৮ কোটি

৪০০.০৮ কোটি

প্রাইম ব্যাংক

১০১.৯১ কোটি

৭৯.৭৯ কোটি

১১৩২.২৮ কোটি

১১৩২.২৮ কোটি

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

৯০.০৬ কোটি

৮৭.২৭ কোটি

৬৬৯.৯৩ কোটি

৫৭৩.৩৬ কোটি

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক

৮১.৯৪ কোটি

৩৬.৮৮ কোটি

৮৬২.৫১ কোটি

৭৮৪.১০ কোটি

এক্সিম ব্যাংক

৭৯.০৯ কোটি

১৮.১৭ কোটি

১৪১২.২৫ কোটি

১৪১২.২৫ কোটি

ঢাকা ব্যাংক

৬৪.৮৪ কোটি

৫৯.৭৯ কোটি

৮৫৩.২১ কোটি

৮১২.৫৮ কোটি

আল-আরাফাহ ব্যাংক

৫৪.৩১ কোটি

৪৪.৪৭কোটি

১০৬৪.৯০ কোটি

১০৪৪.০২ কোটি

ওয়ান ব্যাংক

৩৮.৯৩ কোটি

৩০.৭৫ কোটি

৮৪৩.১৯ কোটি

৭৬৬.৫৩ কোটি

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক

৩৪.৬৩ কোটি

৩৩.৪১ কোটি

৮৯৩.৩৪ কোটি

৮১২.১৩ কোটি

এবি ব্যাংক

১১.৩৭ কোটি

২৯.৮২ কোটি

৭৫৮.১৩ কোটি

৭৫৮.১৩ কোটি

রূপালি ব্যাংক

১০.৫২ কোটি

১৩.৩৬ কোটি

৪১৪.১৭ কোটি

৩৭৬.৫২ কোটি

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক

৮.২৩ কোটি

৮.৯১ কোটি

৯৫৮.০৯ কোটি

৮৭০.৯৯ কোটি

আইসিবি ব্যাংক

(১৯.৪৪) কোটি

(২০.৫৮) কোটি

৬৬৪.৭০ কোটি

৬৬৪.৭০ কোটি

মোট-৩০টি ব্যাংক

মোট- ৩৫৩৮.৯১ কোটি টাকা

মোট-২৭৯২.৪৭ কোটি টাকা

মোট-৩০০৯৬.৯৮ কোটি টাকা

মোট-২৭৮৬০.১৫ কোটি টাকা

মুনাফা বেড়েছে - ৭৪৬.৪৪ কোটি টাকা

মূলধন বেড়েছে-২২৩৬.৮৩ কোটি টাকা

তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। ব্যাংকটির ২ হাজার ৯২০ কোটি ৪০ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরপরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। আর ১ হাজার ৪৭২ কোটি ৬১ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক।

বর্তমানে ১২টি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকার উপরে রয়েছে। ব্যাংকগুলো হল- ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া।

বিজনেস আওয়ার/০৫ আগস্ট, ২০১৯/আরএ

উপরে