businesshour24.com

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬

মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে আগুন

ধ্বংসস্তূপে শেষ সম্বল খুঁজছে বস্তিবাসী

১১:০৭এএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে মিরপুরের চলন্তিকা বস্তি। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে বাসিন্দাদের। আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব তারা।

অনেকে ধ্বংস স্তূপের মধ্য থেকে খুঁজছেন কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা। আধাপোড়া কিছু পাওয়া গেলে সেসব বিক্রি করে অন্তত দুই-একদিনের খোরাক তো হতে পারে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরপুর-৭ নম্বরে রূপনগর থানার পেছনে চলন্তিকা বস্তিতে লাগা আগুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে যখন নিয়ন্ত্রণে আসে, ততক্ষণে বস্তির প্রায় সব ঘরই পুড়ে ছাই।

বিল্লাল হোসেন কাজ করেন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক হিসেবে। অগ্নিকান্ডের সময় ছিলেন বাইরে, খবর পেয়ে ছুটে আসলেও কিছুই বাঁচাতে পারেননি।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর মর্জিনার বিয়ের দিন ঠিক হয়েছে। বাবা-মা মেয়ের বিয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও খাট, আলমারী, শোকেসসহ বিয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ঘরে এনে রেখেছিলেন। কিন্তু আগুন মর্জিনাদের সবই কেড়ে নিয়েছে।

মর্জিনার বাবা মহসিন বলেন, মেয়ের বিয়ে দিতে অসুস্থ শরীর নিয়া দিনরাত খাইটা এইসব জোগাড় করছিলাম। এখন আমার মেয়ের কি হবে? আমি টাকা বাইর কইরা আনতে চাইছিলাম, কিন্তু কাছেই যাইতে পারি নাই।

আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন গার্মেন্টকর্মী মরিয়ম। কয়েক মাস আগে ছয় লাখ টাকা খরচ করে গড়ে তোলা তার স্বামীর ডেকোরেশনের দোকানটিও ছাই হয়েছে।

নিঃস্ব মরিয়ম এখন দুই মেয়ের পড়ালেখা কীভাবে চলবে, সেই চিন্তাতেই অস্থির। ওই ব্যবসা (ডেকোরেশনের) শুরু করতে গিয়া অনেক ধারদেনা হইছে। এখন ওই চিন্তাই সবচেয়ে বড়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন থেকেই এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত। এর আগেও এই বস্তিতে বিদুৎ লাইন থেকে আগুন লেগেছিল বলে জানায় তারা।

বিষয়টি স্বীকার করে ফায়ার সার্ভিস বলছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিদুৎ এবং গ্যাস লাইনের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এখানে অনেক গ্যাসের সংযোগ ছিল। যার ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে।

মিরপুরের আরামবাগের ছয় নম্বর রোডের শেষ মাথায় বস্তির কাছে শত শত নারী পুরুষ রাস্তায়, বা খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে দেখা গেছে।

চলন্তিকা বস্তির পাশে বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতনে শুক্রবার রাতে খোলা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। আগুনে সর্বস্ব হারানোদের অনেকে সেখানে ঠাঁই নিয়েছেন।

তাদের একজন রোকেয়া বেগম বলেন, আমাদের যাদের যাওনের কোনো জায়গা নাই, এইখানে ঠাঁই পাইসি। রাইতে এইখানে জায়গা না পাইলে রাস্তায় থাকতে হইত।

বস্তিতে আগুন লাগার পরপরই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষম ১০টি পানির ট্যাংকে এক লাখ লিটার পানি সরবরাহ করে। পাশাপাশি একটি টাওয়ার লাইট এবং মেডিকেল টিম নিয়োজিত হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজনেস আওয়ার/১৮ আগস্ট, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

স্ট্যাটাস দিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
'পাত্রীর মা ভালো না হলে, পাত্রী ভালো হবে না'

উপরে