ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

২১ অগাস্ট মামলা

আপিল শুনানি আটকে আছে পেপারবুকে

২০১৯ আগস্ট ২১ ১০:১০:৪৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ভায়াল একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় ৪৪ আসামির জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে অপেক্ষমাণ রয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রায় সাত মাস সময় পার হলেও নিয়ম অনুসারে পেপারবুক প্রস্তুত না হওয়ায় এ মামলার শুনানি শুরু করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

জানা গেছে, মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর তার নেতৃত্বে দু’জন মুদ্রাক্ষরিক পেপারবুক টাইপের কাজ করছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ’ নেতাকর্মী।

সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পরে ওই ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘ নাটকীয়তার পর ওই দুই মামলার ওপর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া রায়ে তিন সাবেক আইজিপিসহ ১১ সরকারি কর্মকর্তার বিভিন্ন মেয়াদের লঘুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

রায় ঘোষণার পর ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর এ মামলায় আসামিদের জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্স সংবলিত প্রায় ৩৭ হাজার তিনশ’ ৮৫ পৃষ্ঠার নথি অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে।

পরে গত ১৩ জানুয়ারি এ মামলা শুনানির জন্য গ্রহণ করে পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত যখন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দেয় তখন ওই দণ্ড কার্যকরের জন্য হাই কোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী মামলার সকল নথি হাই কোর্টে পাঠিয়ে দেয়, যা ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত।

ওই নথি আসার পর হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। পেপারবুক প্রস্তুত হলে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য আবেদন) অনুমোদনের জন্য গত বছরের ২৭ নভেম্বর এ নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়।

পেপারবুক তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধানে দুইজন মুদ্রাক্ষরিক পেপারবুক তৈরির কাজ করছেন।

পেপারবুক তৈরি হতে কত সময় লাগতে পারে এ বিষয়েও তিনি সুস্পষ্ট দিন তারিখ দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, পেপারবুক তৈরিতে কোনও নিয়ম নেই যে, আমরা তাগাদা দিতে পারি। তবে পেপারবুক তৈরি হলে আদালতের কাছে আমরা দ্রুত শুনানি শুরুর জন্য আবেদন করতে পারবো।

বিজনেস আওয়ার/২১ আগস্ট, ২০১৯/এ

উপরে