ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, যা বলছেন স্থানীয়রা

২০১৯ আগস্ট ২৫ ০৯:১৭:৫৯


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক (কক্সবাজার): কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে গেছেবিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

রোহিঙ্গাদের চাপে এখন এখানকার স্থানীয়রাই সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হয়ে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মোট জনসংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজার। এর মধ্যে রয়েছে–উখিয়ায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬শ’ এবং টেকনাফে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪শ’।

সেখানে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সহিংস ঘটনার পর পালিয়ে আসা সাড়ে ৭ লাখসহ মোট ১১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৭ জন রোহিঙ্গা বাস করছে। এসব রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস করে বসতি গড়ে তুলেছে।

রোহিঙ্গা আশ্রিত ক্যাম্পগুলোর সঙ্গেই রয়েছে স্থানীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতি ও চাষযোগ্য জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ কারণে অনেকের ভিটেবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও চাষাবাদের জমি অঘোষিতভাবে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র লোকজন। একইভাবে শ্রমবাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

উখিয়া ও টেকনাফের বাজারগুলোতে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। রোহিঙ্গাদের কারণেই এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

উখিয়ার কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা ত্রাণ হিসেবে চাল পাচ্ছে। এ কারণে চালের বাজার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে এখানে সবজির দাম আকাশচুম্বী। মাছ তো সময়মতো পাওয়াই যাচ্ছে না!

এসব বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উখিয়ায় বাড়তি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তবে চাল, ডাল ও তেলসহ কিছু পণ্যের দাম কম।

কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় রোহিঙ্গারা সেখানে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।

তাদের কারণে শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা নানা সামাজিক ও আর্থিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ কারণে তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা-বিরোধী ক্ষোভ বাড়ছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ২২ আগস্ট সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার পেছন সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত দুই বছরে ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন তাঁরা সহজে মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলে মনে হয় না।

তাই সরকারের উচিত তাদেরকে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার। দুই বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আলোর মুখ না দেখায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। কারণ রোহিঙ্গারা দিন দিন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সব ধরনেরর প্রস্তুতি থাকার পরও রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে না ফেরার কারণে ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তবে এটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই যারা নিজের ইচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজি হবেন, তাদেরকেই ফেরত পাঠানো হবে।

বিজনেস আওয়ার/২৫ আগস্ট, ২০১৯/এ

উপরে