ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬


মুসলিম জাহানে অবিস্মরণীয় নাম হজরত আলী (রা.)

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৭:৫৭:৪৮

বিজনেস আওয়ার ডেস্কঃ মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর যে ক’জন সাহাবা ইসলামের খেদমতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তার ভেতর হজরত আলী (রা.) ছিলেন অন্যতম।

নবী করিম (সা.)-এর ইন্তেকালের পর খোলাফায়ে রাশিদীন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি চতুর্থ খলিফা হয়ে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন।

হজরত আলী (রা.) মুসলিম জাহানে একটি অবিস্মরণীয় নাম।

হজরত আলী (রা.) ছিলেন নবী করিম (সা.)-এর আপন চাচাতো ভাই ও জামাতা। তার পিতার নাম আবু তালিব। মায়ের নাম ফাতিমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম। হজরত আলী (রা.)-এর ডাক নাম আবু তুরাব। তিনি ৬০০ খ্রিস্টাব্দের রজবের ২৩ তারিখ মক্কার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

মক্কায় প্রচণ্ড অভাব-অনটন দেখা দিলে নবী করিম (সা.) তাঁর চাচার আর্থিক দৈন্যতা দেখে হজরত আলীকে তার পরিবারে নিয়ে আসেন। হজরত আলী (রা.) নবীজির আশ্রয়ে বড় হতে থাকেন।

ইসলামের সূচনাকাল থেকেই হজরত আলী ছিলেন মহানবীর প্রিয়পাত্র। ইসলামের প্রতিটি কাজে তার অংশগ্রহণ থাকত অনিবার্য। রাসূলে পাক (সা.)-এর প্রতিটি কাজের প্রতি তার ছিল অগাধ বিশ্বাস। মনে প্রাণেই তিনি নবী করিম (সা.)-এর কর্মকাণ্ডকে বিশ্বাস করতেন এবং মানতেন।

হুজুর (সা.) নবুয়তপ্রাপ্ত হলে মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে বালক আলী পুরুষের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। পনেরো বছর বয়সে তিনি এক সমাবেশে নবী করিম (সা.)-এর উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হন। এ সমাবেশে হুজুর (সা.) বংশীয় তার নিকটাত্মীয় প্রায় ৪০ জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে কিশোর আলী বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) আমি যদিও সর্বাপেক্ষা বয়োকনিষ্ঠ, যদিও আমার বাহুদেশ চিকন, হাড্ডি এখনও কচি, কিন্তু তবু আপনার সহায়তায় আমি অটল-অবিচল থাকব ইনশাআল্লাহ। এই প্রতিজ্ঞার প্রমাণ মিলে পরবর্তীকালে।

ইসলামের নতুন বাণীর দাওয়াত পেয়ে হুজুর পাক (সা.)-এর বিরুদ্ধে একশ্রেণীর মানুষ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রতি মুহূর্তে তাকে নির্যাতন-জুলুম করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। কিন্তু সত্যের কাছে অসত্য চিরকালই পরাজিত হয়েছে। নবীজির শত্র“রাও পরাজিত হয়েছে।

হুজুর পাক (সা.)-এর ত্যাগ এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের সহযোগিতায় একদিন ইসলামের মশাল অন্ধকার আরবে প্রজ্বলিত হল। হজরত আলী (রা.) ছিলেন এই মশাল বয়ে নেয়ার অক্লান্ত সৈনিক।

তিনি বদর, ওহুদ, খন্দক, বনু কোরায়জা যুদ্ধ, হোদায়বিয়ার সন্ধি, খায়বর বিজয়, হুনাইনের যুদ্ধ, আদিউসের যুদ্ধ ও ইয়ামিনের যুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন করে সবার শ্রদ্ধাভাজন হয়ে ইসলামের ইতিহাসে শেরে খোদা উপাধি লাভ করেন।

হজরত উসমান (রা.)-এর সময় খেলাফতে প্রবল বিদ্রোহ দেখা দিলে হজরত আলী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্রোহীদের হাতে হজরত উসমান (রা.) ইন্তেকালের পর সব সম্প্রদায় এবং সমগ্র আরব জাহানের অনুরোধে হজরত আলী (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন।

বিজনেস আওয়ার/১৭ সেপ্টেম্বর,২০১৯/ এম

উপরে