ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬


আস্থা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা -ইমন

২০১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৭:৫৩:১২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : একুশ শতাব্দিতে আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ও ডিএসইর যৌথ উদ্যোগে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত “টেকনিক্যাল সিরিজেস প্রিপেয়ারিং এ সাসটেনেবল রিপোর্ট” শীর্ষক ওয়ার্কশপে তিনি এ কথা বলেন৷

তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি রিপোর্ট সবার চাহিদা৷ বিশ্বব্যাপী যা গ্রহণযোগ্য হবে৷ কিন্তু বাংলাদেশে কিছু বহুজাতিক কোম্পানি এই মান অনুযায়ী রিপোর্ট করে। তবে আরও অনেক কোম্পানি চাইলেই এমন রিপোর্ট করতে পারে৷ তাহলে আমাদের শেয়ারবাজার, জিডিপি এবং অর্থনীতি সবই আরো উচ্চ স্তরে যাবে।

ইমন বলেন, জিআরআই এর গাইড লাইনগুলো হলো বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য,প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, বিশ্বস্ত এবং ব্যবহার বান্ধব৷ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ এই গাইডলাইন কোম্পানির ব্র্যান্ডিং, খ্যাতি এবং পণ্যের পার্থক্য কাঙ্খিত পর্যায়ে বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে৷ জিআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুনাফার দিক থেকে বিশ্বের ৯৩% বৃহত্তর কোম্পানির তিন-চতুর্থাংশ সাসটেইন্যাবল রিপোর্ট তৈরিতে জিআরআই এর কাঠামো ব্যবহার করে৷

ডিএসইর এই পরিচালক বলেন, জিআরআই এর মান অনুযায়ী ডিএসইর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে রিপোর্ট তৈরিতে সহায়তা প্রদান ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স পরিপালনে সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং এর উপর নির্দেশিকা চালু করেছে। যা অনুসরণ করার জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ১৯৫৪ সালের ডিএসই এখন ৪০ বিলিয়ন ডলারের মার্কেট৷ যদি জিডিপি, ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ এবং গ্রোথের সাথে তুলনা করা হয়, তবে সেটা ক্যাপিটাল মার্কেটে হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক।

ইমন উল্লেখ করেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ব্যাপকভাবে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশের দৃঢ়তার উপর জোর দিয়েছে৷ ডিএসই রেগুলেটরি সংস্থা ও জিআরআই-এর সহযোগিতায় সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং নির্দেশিকার উপর এই সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং এই কর্মশালা থেকে সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাভবান হবে৷

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ডিএসই ও জিআরআই এর যৌথভাবে আয়োজিত এই কর্মশালা সমাপ্তির পর আগামী দিনগুলোতে আরও বাংলাদেশি কোম্পানি এই ধরনের রিপোর্ট তৈরি ও প্রকাশ করবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, ডিএসই তাদের জাতিসংঘের এসএসই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ধরনের কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

এর আগে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মতিন পাটওয়ারী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সাটেনেবিলিটি রিপোর্ট এখন মূলধারার ব্যবসায়িক অনুশীলন। জিআরআই এর সাসটেনেবিলিটি স্ট্যান্ডার্ডগুলো হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি মান। যা প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সমাজের উপর তাদের প্রভাব সম্পর্কে যোগাযোগ করার জন্য একটি সার্বজনীন ভাষা। এছাড়াও জিআরআই নেতিবাচক পরিবেশগত, সামাজিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব হ্রাস করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু ও লয়ালিটি বৃদ্ধি করে। এরফলে এক্সটারনাল স্টেকহোল্ডারগন প্রতিষ্ঠানের সঠিক মূল্য এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ডিএসই ও জিআরআই যৌথভাবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিবেশগত, সামাজিক এবং সুশাসন এর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ও সচেতনতা গড়ে তুলতে নির্দেশনা প্রদানের জন্য কাজ করছে। ডিএসই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাসটেনেবিলিটি রিপোর্টিং এবং কর্পোরেট স্বচ্ছতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি বৃহৎ সংখ্যার কোম্পানি সাসটেনেবিলিটির বিষয় রিপোর্ট করছে৷

জিআরআই হল একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা। যা ১৯৯৭ সাল থেকে কর্পোরেট সাসটেইন্যাবিলিটি রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে আসছে। জিআরআই ব্যবসা, সরকার এবং অন্যান্য সংগঠনকে জটিল সাসটেইন্যাবিলিটি ইস্যু, যেমন: জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, দুর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ব্যবসায়ে প্রভাবকে বোঝায় এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ৯০টির বেশি দেশে কয়েক হাজার প্রতিনিধি রয়েছে। জিআরআই টেকসই রিপোর্টিং-এর উপর বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত স্টান্ডার্ডগুলো প্রদান করে, সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের স্টেকহোল্ডারগণ এই বিষয়গুলোর তথ্যের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ইনচার্জ) আবদুল মতিন পাটওয়ারী, এফসিএমএ, জেনারেল ম্যানেজার এবং কোম্পানি সচিব মোহাম্মাদআসাদুর রহমান, এফসিএস, জিআরআই সাউথ এশিয়ার সাসটেনেবিলিটি এক্সপার্ট মিস পল্লবী আত্রী, জিআরআই সাউথ এশিয়ার ডিএফএটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিস রুবিনা সেন৷

বিজনেস আওয়ার/১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/আরএ

উপরে