ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬


'এই মুহূর্তে সিনেমার জন্য প্রস্তুত নই'

২০১৯ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৩:৪২:৪০


বিনোদন ডেস্ক : ২০১৭ সালে 'ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি' প্রতিযোগিতায় নাম লেখান মুনজিরা তৃষা। প্রায় ২৫ হাজার তরুণী শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে সে বছর 'ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ'’র শীর্ষ ১২’তে জায়গা করে নেন মুনজিরা।

ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে নিজের ভেতর লুকানো আত্মবিশ্বাস! তবে জীবনের অন্যতম প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়ায় 'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ'-২০১৮ এর আসরটি। সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরাট এই আসরে সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত শীর্ষ-৬ থেকেই বিদায় হতে হয় তাকে।

এই প্লাটফর্মগুলোতে অংশ নিয়ে শোবিজ অঙ্গনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মুনজিরা। প্রতিষ্ঠার জন্য না দৌড়িয়ে চুপচাপে কাজ করে গেছেন। যেখানে কচ্ছপ ধীর গতির হয়েও শুধু একাগ্রতা, নিষ্ঠা আর পরিশ্রমের কারণে দ্রুত গতি সম্পন্ন খরগোশকেও হার মানিয়েছিলো!

বিভিন্ন ব্র‌্যান্ডের হয়ে ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন, মডেলিং করেছে নিয়মিত। তবে নিজের ভেতরে গোপনে লুকিয়ে রেখেছিলেন অভিনয়ের বীজ! সেই ছোট্টবেলা থেকেই যিনি অভিনয়কে ধারণ করে বেড়ে উঠেছেন।

সেই নেশা থেকেই তিনি ভর্তি হয়েছিলেন প্রাচ্যনাটের স্কুলে। থিয়েটারে কাজ করতে গিয়ে অভিনয়ের প্রতি নেশা যেন আরো পেয়ে বসে তাকে!

মুনজিরা তৃষা জানান, অভিনয়ের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার একটা টান ছিলো। ইনফ্যাক্ট মিস ওয়ার্ল্ড-এর টপ-টেনেও আমি এসেছিলাম একক অভিনয় দিয়ে। অভিনয়টা মূলত আমার ভালোবাসা আর ভাল লাগার জায়গা।

প্রাচ্যনাট স্কুলে ছিলাম। সেখানে অভিনয়ে পাঠ নিয়েছি, পথ নাটক করেছি।প্রথমবারের মতো মুনজিরা অভিনয় করলেন চ্যানেল আইয়ের একটি নাটকে। ইরানী বিশ্বাস পরিচালিত নাটকের নাম ‘ডিগ্রিধারী চান্দু মামা’।

প্রথমবার অভিনয়ের জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অনুভূতির ব্যাপারে মুনজিরা বলেন, ক্যামেরার সামনে প্রথমবার দাঁড়ালেতো একটা ভয় সবারই কাজ করে। তারপরও বলবো, থিয়েটারের চেয়ে ক্যামেরার সামনে কাজ করা অনেক সহজ।

কারণ ক্যামেরার সামনে ভুল হলে আবার সেই শটটি নেয়া যায়। কিন্তু থিয়েটারে সেই সুযোগ নেই। দর্শকের সামনে লাইভ পারফর্মেন্স করতে হয়। এর বাইরে থিয়েটার নিয়ে ভাবনার সুযোগই নেই।

জীবনের প্রথম অভিনীত নাটক নিয়ে তৃষা বলেন, ইরানী ম্যাম (ইরানী বিশ্বাস) পরিচালিত খুব সুন্দর একটি নাটক ‘ডিগ্রিধারী চান্দু মামা’। যেখানে অভিনয় করতে গিয়ে অন্যরকম অনুভূতির জন্ম হলো আমার।

নতুন হিসেবে সবাই আমাকে এতো সাপোর্ট করেছেন, বিশেষ করে ইরানী ম্যামকে ধন্যবাদ। জীবনের প্রথম কাজটা সব কিছু মিলিয়েই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে ভাল কাজগুলো করতে চাই।

অভিনয় দিয়ে আমি এরকম জায়গায় নিজেকে নিয়ে যেতে চাই, যেখানে গেলে দর্শক যেন আমার অভিনয় দেখেন, চেহেরা নয়। আমার অভিনয় যদি কারো মনে দাগ কাটে, তাহলে সেটা তার সারা জীবন মনে থাকবে। কিন্তু চেহেরা যে কোনো সময় ভুলে যেতে পারেন!

যদি কোনো পরিচালক বা প্রযোজক সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে আসেন, কী করবেন মুনজিরা?-এমন প্রশ্নে একটু ভেবেচিন্তে তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তে সিনেমার জন্য প্রস্তুত নই, আর আমি এটাও জানি এই মুহূর্তে সিনেমায় কেউ আমাকে ডাকবেও না!

বিজনেস আওয়ার/২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯/এ

উপরে