ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬


দাম বেড়েছে সবজির, মাছে স্বস্তি

২০১৯ অক্টোবর ০৪ ১১:৩৭:১০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সপ্তাহ ব্যবধানে ফের বেড়েছে সব ধরনের সবজির দর। সবজি ভেদে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। একইভাবে সবজির মতোই বাড়তি শাকের বাজারও।

তবে বাজারে স্বস্তি মিলেছে মাছের দরে। ইলিশের দর কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে অন্য সব মাছেরও। এ সব বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, খিলগাঁও রেলে গেট বাজার, শান্তিনগর ও সেগুন বাগিচা কাঁচা বাজারে এ চিত্র দেখা গেছে।

এ সব বাজারে খুচরা প্রতিকেজি টমেটো ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

একইভাবে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতিকেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ও উস্তা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

বেগুন ৪০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁরস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৪০ টাকা, শসা (দেশি) ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর ছড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমেছে সিমের দাম। এদিন বাজারে প্রতিকেজি সিম বিক্রি করতে দেখা গেছে ১৩০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়া আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা, জালি কুমড়া ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

সবজির মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের শাক। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আঁটি শাকে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি আঁটি (মোড়া) লাল শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা।

মুলা শাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, পালং শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, কুমড়া শাক ২৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ শাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং পুঁই শাক ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার কারণে বাজারে সবজির সংকট রয়েছে। এ কারণে সবজির বাজার চড়া। আর ক্রেতারা বলছেন বন্যার প্রভাব বাজারে না পড়লেও অতি লাভের আশায় বিক্রেতারা বাড়তি দাম রাখছেন।

শান্তিনগর বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে সবজি আসছে না। এ কারণে বাজারে কিছুটা সবজি সরবরাহ কমেছে সঙ্গে দামও বেড়েছে।

একই বাজারের ক্রেতা বলেন, বাজারে কোনো সবজির ঘাটতি নেই, শীতকালীন আগাম সবজিতে ভরা বাজার। দেশের কোথা কোথাও বন্যা হলেও এর কোনো প্রভাব নেই বাজারে। এরপরও বেশি লাভের আশায় বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বাজারে ইলিশ মাছের দাম কমার সঙ্গে অন্য সব ধরনের মাছের দাম কমেছে। এসব বাজারে এককেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতি ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া আকার ভেদে জাটকা বিক্রি করতে দেখা গেছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

এছাড়া কিছুটা দাম কমে প্রতিকেজি রুই (আকার ভেদে) বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, মৃগেল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, পাঙাস ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চিংড়ি হরিণা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

বাগদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা ৪৫০ থেকে ৮৫০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬৫০ থেকে ৮৫০, বাইন ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, বাইলা ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিজনেস আওয়ার/০৪ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে