ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬


ইরাকে পাঠিয়ে প্রতারণার অভিযোগ জীবননগরের মাসুদের বিরুদ্ধে

২০১৯ অক্টোবর ০৮ ১২:১৯:১২

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভালো কাজের প্রলোভন এবং মোটা অংকের বেতনের কথা বলে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ইরাকে পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মাসুদ রানা নামে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাসুদ রানা জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা বসুতিপাড়ার মমিন উদ্দিনের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি জীবননগর পৌর শহরের হাইস্কুল পাড়ার আজাদ হোসেনের ছেলে আকমল সাঈদকে ইরাকে ভালো কাজ দেওয়ার নাম করে তার নিকট থেকে ৪লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় মাসুদ রানা। পরবর্তীতে তাকে ইরাকে পাঠানো হলেও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত্রে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় তাকে দুই মাস কোন কাজকর্ম না দিয়ে এক স্থানে আটকে রাখা হয়।

পরবর্তীতে একটি ইরাকের নাসরিয়ার হাব্বুবি শহরের রেস্টুরেন্ট এম ক্যাফেতে দালাল মারফত কাজ প্রদান করে মাসুদের সেদেশের সহযোগীরা। সেখানে কাজ করা অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট তারিখে ভুয়া অয়ার্ক পারমিটে কাজ করার অপরাধে ইরাকের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সেই দেশের আইন অনুযায়ী চার মাসের সাজা ভোগ করছে আকমল।

এদিকে আকমল সাঈদের বাবা আজাদ হোসেন বাদি হয়ে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে গত ৫ই সেপ্টম্বর জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে, যার মামলা নং-৪।

আকমল সাঈদের বাবা আজাদ অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে মাসুদ রানা তাকে ইরাকে ভালো কাজ আর মোটা অংকের বেতন দেওয়ার কথা বলে আমার নিকট থেকে ৪লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। আমার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মাসুদের কাছে টাকা দিয়। কিন্তু সে আমার ছেলেকে ইরাকে পাঠালেও তার কোন কাজ দেয়নি বরং তাকে দুই মাস যাবৎ একটি স্থানে আটকে রাখে।

পরবর্তীতে ইরাকের একটি রেস্টুরেন্টে কাজের ব্যবস্থা করে দালালের মাধ্যমে। আমার কাছে যখন ওই রেস্টুরেন্টে কাজ না করে দেশে ফেরার কথা বলে, তখন রেস্টুরেন্ট মালিক বলে তোকে আমরা ৫০০ ডলারের বিনিময়ে কিনেছি। এই টাকা পরিষোধ না করে তুই দেশে ফিরতে পারবি না।

রেস্টুরেন্টে কাজ করা কালীন আমার ছেলেকে অবৈধভাবে কাজ করার অপরাধে ইরাকের ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে। আমি আমার ছেলে এবং টাকা ফেরৎ চাইলে মাসুদ প্রথমে আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সমঝোতা করলেও জীবননগরের কথিত এক সাংবাদিকের কথায় বিভিন্ন ভাবে আমাকে হুমকি ধামকি দেয়। বর্তমানে আমরা শঙ্কায় দিন পার করছি।

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু আকমল সাঈদই নয়, মাসুদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেন উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বকুলের ছেলে সোহেল ও আরিফ।

জানা গেছে, মাসুদ রানা ও তার বাবা মমিন উদ্দিন এবং স্থানীয় এক ভুয়া সাংবাদিক ক্রাইম রিপোটার পরিচশ প্রদানকারীর মাধ্যমে এলাকার বেশ কিছু বেকার যুবককে বিদেশে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজে আলীশান বাড়ি আর আলীসান জীবন-যাপন করলেও, মানবতা ও হতাশার মধ্যে জীবন-যাপন করছেন বেকার যুবকরা।

এমন কি নিঃশ্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া সুত্র জানায়, মাসুদ রানা ইরাক থেকে এক ব্যাবসায়ীর বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশে চলে এসেছে।

আকমল সাঈদের ব্যাপারে ইরাকে একই অভিযোগ থেকে আটক হয়ে সাজা খেটে দেশে ফিরে আসা বক্তিয়ার রহমান বলেন, ইরাকে অবৈধ ভাবে কাজ করার অপরাধে আমাদেরকে আটক করা হয়। আমিও সাজা খেটেছি। সেদেশের আইন অনুযায়ী আকমল সাজা খাটছে।

বক্তিয়ার আরও বলেন, মাসুদ ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আমাদের ইরাকে নিয়ে যায়। আমাদের যে ভিসা দেয় পরে আমরা জানতে পেরেছি সেই ভিসায় ইরাকে কাজ করার কোনো বৈধতা নেই। তাছাড়া ইরাকে আমাদের যে ওয়ার্ক পারমিট দেয়া হয়েছে সেটাও ভুয়া। আমি মাসুদের শাস্তি দাবি করছি।

এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, আমি বিদেশে পাঠানেরা নাম করে যে টাকা নিয়েছি তা ঠিক। তাদের তো ইরাকে পাঠিয়েছি তবে সাময়িক সমস্যা হয়েছে তা সমাধান করেছি। ভুয়া কাগজ পত্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে মাসুদ কোনো সদুত্তর না দিয়ে উলটো দাম্ভিকতার সাথে বলেন, পারলে কিছু করে নিতে বইলেন।

উথলী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার নাম করে টাকা আত্বস্বাতের একাধীক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বিচারের দিন এলেই সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তা ছাড়া সে বেশ কিছু ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু ছেলে বাড়িতে চলে এসেছে আর কিছু ছেলে নাকি আটক হয়েছে।

জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একটা মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি। ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে আমরা তাকে গ্রেফতার করে আইনানুগ বযাবস্থা নেব।

বিজনেস আওয়ার/০৮ অক্টোবর, ২০১৯/এ

উপরে