sristymultimedia.com

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬


দাম চড়া তাই আগেই তোলা হচ্ছে পেঁয়াজ!

০৯:৫৭পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৯


বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : শাকসবজি উৎপাদনে দারুণ খ্যাতি রয়েছে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার জয়মনটপ ইউনিয়নের চর দুর্গাপুর গ্রামের। ভৌগোলিক গঠনে কিছুটা উঁচুতে অবস্থিত এই গ্রাম। সে কারণে রবি শস্য বা শীতকালীন আগাম ফসল পাওয়া যায় এই গ্রাম থেকে।

রাজধানীর বাজারে এখন পেঁয়াজের বেশ কদর। শুধু ঢাকা কেন, সারা দেশেই পেঁয়াজের নাগাল সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হলে দেড় শ টাকা গুনতে হচ্ছে। আর এই সুযোগটা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন চর দুর্গাপুরের কৃষকেরা।

আশ্বিন মাসের প্রথম দিকেই এই চর দুর্গাপুর গ্রামের কৃষকেরা পেঁয়াজের আবাদ শুরু করে দিয়েছেন। কলমিলতা শুরু করেছে। ঢাকার বাজারে তাদের পেঁয়াজ এরই মধ্যে চলে আসতে শুরু করেছে।

চর দুর্গাপুরের কৃষক জাহিদ মোল্লা বলেন, আমরা আশ্বিন মাসের প্রথম থাইক্যাই পিঁয়াজ আবাদ শুরু করছি। দিন দশেক আগে থেকে পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে আসা শুরু করেছে।

অহন লাগাইছি মুড়ি পিঁয়াজ। এই পিঁয়াজ দেখতে মুড়ির মতো। ছোট ছোট দানা হয়। কিন্তু ভীষণ ঝাঁঝ। ঢাকার থন ব্যাপারীরা আমাগো গ্রামে আইসা এই পিঁয়াজ কিনা লইয়া যাইতাছে। এইডা আবার গাছ সহ (পেঁয়াজ ও কলি) কিনতে হয়।

দাম কেমন পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ মোল্লা বলেন, দশ দিন আগের থন মুড়ি পিঁয়াজ বেচতাসি। দামের হেরফের নাই। আঠারোশো টাকা মণ। কেজি ৪৫ টাকা। '

শুধু সিংগাইরে নয়, পুরো মানিকগঞ্জ জেলা দেশি পেঁয়াজের জন্য বেশ বিখ্যাত। একথা জানান সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান স্বপন।

তিনি বলেন, সিংগাইর উপজেলা কিছুটা উঁচু এলাকায় অবস্থিত। এজন্য শীত কিংবা গ্রীষ্মকালীন ফসল আগেভাগে চাষ হয়। এবার পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। তাই এই উপজেলায় আগেভাগে পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা।

সব মিলিয়ে সিংগাইর উপজেলায় এ মৌসুমে ৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে। আগের বছর হয়েছিল ৭০ হেক্টর জমিতে। এবার দাম বেশি পাওয়ায় অনেক কৃষক এক মৌসুমে দুইবার পেঁয়াজ আবাদ করবেন। সেই প্রস্তুতি অনেকেই নিয়ে রেখেছেন।

জাহিদ মোল্লার জমিতে চাষ হওয়া মুড়ি পিঁয়াজের দেখা মিলল কাওরান বাজারে কাঁচা সবজির আড়তে। ট্রাকে ভর্তি করে সন্ধ্যা না হতেই পেঁয়াজকলি এই আড়তে চলে আসে। এখানে কলিসহ পিঁয়াজের এক আঁটি গড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে পাইকারি দরে।

আড়ত মালিক বলেন, ৮ দিন আগে থেকে সিংগাইরের পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। এইবার চাহিদা বেশি। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। পেঁয়াজকলি আরও সপ্তাহ দুয়েক এভাবেই আসবে। এরপর পুরোপুরি পেঁয়াজ আসতে থাকবে। তবে দাম কমে যাওবার সম্ভাবনা নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পিঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, একই বছর আমদানি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী দেশে এবার পেঁয়াজের মোট সরবরাহ হয়েছে ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার টন। বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। সেই হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৬৬ হাজার টন।

বিজনেস আওয়ার/০৩ নভেম্বর, ২০১৯/এ

উপরে