businesshour24.com

ঢাকা, রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৬


দুপুরে হলি আর্টিজান মামলার রায়

০৮:২৮এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত হলি আর্টিজান বেকারিতে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা নাগাদ ঘোষণা করা হতে পারে। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করবেন। এ জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত সংস্থা এবং সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযুক্ত আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের দাবি- সরকার পক্ষ আসামিদের অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ ব্যাপারে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খান জাকির বলেন, রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রায়ে ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড আশা করছি। আমরা সাক্ষ্য প্রমাণে তা প্রমাণ করতে পেরেছি যে, আসামিরা অপরাধী। তাই আমরা আশা করছি, ৮ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেবেন বিচারক।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাক্ষীর জেরা ও যুক্তি উপস্থাপনে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি আসামিরা অপরাধ করেননি। তাই আমরা রায়ে আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই।

ঢাকার আদালতের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন বলেন, হলি আর্টিসান মামলার রায় উপলক্ষে ডিএমপির দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আদালত এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা বিশেষ নিরাপত্তার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও হামলার কোনো আশঙ্কা নেই, তবে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।

মামলার আসামিরা হলেন— রাজীব গান্ধী, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাতকাটা সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ইসলাম ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যা শ, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন। রায় ঘোষণার জন্য কারাগারে আটক থাকা ৮ আসামিকেই আদালতে হাজির করা হবে। তাদের উপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে (স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ) হামলা চালায় জঙ্গিরা। ওই হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে তারা। নিহতের মধ্যে ৯ জন ইতালি, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয় ছিলেন।

এর আগে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর গ্রেনেড হামলা চালায় জঙ্গিরা। গ্রেনেড হামলায় ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ নিহত হন। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো 'অপারেশন থান্ডারবোল্ট' নামক অভিযান চালায়। এতে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।

অভিযানে রেস্তরাঁর প্রধান শেফ সাইফুল ইসলাম মারা যান। গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সহকারী শেফ জাকির হোসেন। ৪ জুলাই নিহত ৫ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে জীবিত আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বাকি ১৩ জন মামলা তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে মারা যান।

বিজনেস আওয়ার/ ২৭ নভেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে