businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৪ মাঘ ১৪২৬


বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের রেকর্ডের হাতছানি

০৯:৩৬এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক : এসএ গেমসের সপ্তম দিনে সেরা সাফল্যকে ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। অষ্টম দিন সকালে আরচারি রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে সোনা জিতে অ্যাথলেটরা গড়েন নতুন ইতিহাস। বিকালে সেটিকে ছাড়িয়ে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেল আরচারি। তার সঙ্গে নারী ক্রিকেটের সাফল্য মিলে বাংলাদেশের স্বর্ণ সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ১৪ তে। রোববার (৮ ডিসেম্বর) একদিনেই রেকর্ড সাতটি স্বর্ণ জেতে বাংলাদেশ।

দেশের বাইরে আগের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৯৫ সালে, মাদ্রাজের এসএ গেমসে। সেবার ৭টি সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে গেমসে অবশ্য এর চেয়েও বেশি সাফল্য আছে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯টি সোনা। ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় দফার আয়োজনে অর্জন ১১টি। আগের দুই আসর ছাপিয়ে ২০১০ সালে ১৮টি সোনার পদক জিতেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। আরচারিকে নয়া ইতিহাসের হাতছানি দিচ্ছে।

এক আসরে এক ডিসিপ্লিনে সর্বাধিক ছয়টি স্বর্ণ এসেছে সাঁতারে। ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আসরে ছয়টি স্বর্ণ জয়ের পাঁচটিতে অবদান ছিল মোশারফ হোসেনের। গতকাল পোখরায় একদিনে ছয়টি স্বর্ণ জিতে সাঁতারকে ছুঁয়েছে আরচারি। মোশারফকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও আজ নবম দিনে রোমান সানারা একবার সোনালি হাসি হাসলেই এক আসরে সাত স্বর্ণ জিতে নতুন রেকর্ড গড়বে আরচারি।

আসরের দ্বিতীয় দিনে ছেলেদের তায়কোয়ান্দোতে ২৯ (প্লাস) বয়স ক্যাটাগরিতে ৮ দশমিক ২৮ ও ৭ দশমিক ৯৬ স্কোর গড়ে সোনা জিতেন দিপু চাকমা। বাংলাদেশও পায় প্রথম সোনার পদকের দেখা। পরদিন তিনটি সোনা আসে কারাতে ইভেন্ট থেকে। পুরুষ একক কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬০ কেজিতে আল আমিন, কুমিতে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজিতে মারজান আক্তার পিয়া এবং কুমিতে অনূর্ধ্ব-৬১ কেজিতে হুমায়রা আক্তার অন্তরা সোনা জিতেন।

বাংলাদেশ ছুঁয়ে ফেলে গত আসরের সাফল্যকে। এই চারটি সোনা জিতে যেন থমকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এ চারটি সোনার পদকই এসেছিল কাঠমান্ডু থেকে। তিনদিন বিরতির পর পোখারা থেকে আসে সোনালী সুসংবাদ। ভারোত্তলনে ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত জিতেন সোনার পদক। এ ইভেন্টে শ্রীলঙ্কার সি বি প্রিয়ন্তিকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বারের মতো এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতেন মাবিয়া।

১৯৯১ সালে কলম্বো সাফ গেমসে প্রথম নারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বর্ণ জয় করেন শুটার কাজী শাহানা পারভীন। মেয়েদের ব্যক্তিগত স্ট্যান্ডার্ড রাইফেল ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেন তিনি। পরের আসরেও স্বর্ণ জয় করেছিলেন কাজী শাহানা পারভীন। তবে সেটি দলগত ইভেন্টে। এ ছাড়া সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শীলা ২০১৬ এসএ গেমসে এক আসরেই দুই স্বর্ণ জয়ের ইতিহাস গড়েছিলেন। দুটিই ছিল ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়েই পর পর দুই দুই আসরে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন এ ভারোত্তোলক। পোখারায় গত শনিবার মেয়েদের ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৮৫ কেজি তুলে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত সোনা জিতলে গত আসরের সাফল্যকে ছাপিয়ে যায় বাংলাদেশ।

একই দিন ভারোত্তোলনে ছেলেদের ৯৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ২৬২ কেজি তুলে জিয়ারুল ইসলাম এবং ফেন্সিংয়ে মেয়েদের সেইবার এককে ফাতেমা মুজিব সেরা হলে মাদ্রাজের সাফল্যকে স্পর্শ করে বাংলাদেশ। এরপর কেবল নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার পালা।

পোখরার আরচারি স্টেডিয়ামে গতকাল রোমান সানা তামিমুল ইসলাম ও হাকিম আহমেদ রুবেলে সোনালি হাসিতে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। দুপুর নাগাদ আরচারদর সেই হাসি আরও চওড়া হয়েছে। পুরুষদের দলগত রিকার্ভে রোমান সানা, হাকিম আহমেদ রুবেল ও তামিল ইসলাম ৫-৩ সেটে শ্রীলঙ্কান আরচাদের হারানো সাহস বেড়ে যায় অন্যদের। পরের ইভেন্টেগুলোতে বাংলাদেশের আরচারদের সঙ্গে কোনো রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেননি অন্যরা।

মেয়েদের দলগত রিকার্ভে ইতি খাতুন, মেহনাজ আক্তার মনিরা ও বিউটি রায়ের দল লঙ্কানদের ৬-০ সেটে উড়িয়ে দিয়ে সোনা জেতেন। মিশ্র রিকার্ভে দলটিতে ছিলেন রোমান সানা ও ইতি খাতুন। তারা হারান ভুটানকে ৬-২ সেটে। কম্পাউন্ড ইভেন্টে ছেলেদের দল জিতেছে ভুটানের বিপক্ষে। আশিকুজ্জামান, সোহেল রানা ও অসিম কুমার দাসের দল জিতেছে ২২৬-২১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে। একই ইভেন্টে মেয়েরা জিতেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

মেয়েদের দলটিতে ছিলেন সুস্মিতা বণিক, শ্যামলি রায় ও সোমা বিশ্বাস। আরচারিতে দিনের শেষ ইভেন্ট কম্পাউন্ড মিশ্র দ্বৈতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন জুয়েল রানা- সুম্মিতা বণিক জুটি। স্বাগতিক নেপালের জুটিকে তারা হারান ১৪৮-১৪০ ব্যবধানে। সব মিলিয়ে দিনের ৬ ইভেন্টের ৬টিতেই সেরা বাংলাদেশ।নারী ক্রিকেটের সাফল্য মিলে এক দিনেই এলো আরও ৭টি সোনা। ১৪টি সোনা জিতে বাংলাদেশ ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) আরচারির চারটি ইভেন্টে স্বর্ণেও লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশের আরচাররা। পুরুষ ক্রিকেটেও স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। বক্সিংয়েও ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশের দু’জন। সব মিলিয়ে দেশের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা জাগলো নেপালের কাঠমান্ডুর পোখারায়।

বিজনেস আওয়ার/০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে