businesshour24.com

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৬


এক দফা আন্দোলনের পরিকল্পনা বিএনপির

০২:১৪পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বিএনপির নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদনের  ভিত্তিতে  জামিন শুনানি হবে। তার জামিন হবে কি হবে না, তার ওপর ভিত্তি করে  পরিকল্পনা তৈরি করছেন দলের নীতিনির্ধারকগণ।

এক জরুরি বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা একমত হয়েছেন যে, কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপার্সনের জামিন না হলে এক দফা আন্দোলনে যাবেন। নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আন্দোলনে যেতে দীর্ঘদিন তৃণমূলের চাপে রয়েছেন তারা। তাই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে সারা দেশের জেলা ও মহানগর নেতাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় জেলায় নেতারা প্রস্তুতিমূলক বৈঠকও করছেন। তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির এক জন সদস্য বলেন, ১২ ডিসেম্বর চেয়ারপার্সনের জামিন না হলে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে পরে। দলের সংসদ সদস্যদেরকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হবে। তবে আমাদের কিছু কৌশল আছে। সেই কৌশল এখন আমরা জানাতে চাই না।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে ম্যাডামের জামিন শুনানি আছে। সরকার যদি আদালতকে ব্যবহার করে তার জামিন আটকে দেয়, তাহলে রাজপথেই এর সমাধান হবে। মানুষ তখন সরকার পতনের আন্দোলনকে বেছে নিতে বাধ্য হবে। আমরা আশা করি সব বিবেচনায় ন্যায় বিচার পাবেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এ মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা না গেলে তার জীবনশঙ্কা রয়েছে। দিন দিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সুতরাং তখন আমাদের যা করণীয় আছে আমরা সেটাই করব।

স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা যদি দেখি বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি, তা হলে এক দফার আন্দোলন হবে। উচ্চ আদালত, আপিল বিভাগ ও বিএসএমএমইউ এক কাছে যদি সুবিচার না পাই, তাহলে এই সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নাই।

দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গতকাল সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বলেন, এক দফা আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসাবিহীন রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে, তা জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে আমরা মেনে নিতে পারি না। আমাদের ঝুঁকি নিতেই হবে।

গতকাল নাটোরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচিতে দেয়া বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে বুঝতে হবে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে হয়নি। যদি তাই হয়, তাহলে ১২ ডিসেম্বরের পর এক দফার আন্দোলন শুরু হবে।

বিএনপি নেতারা জানান, রাজপথের যে কোনো আন্দোলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের শরিকদের পাশে রাখবে দলটি। এই আন্দোলনে তাদেরকেও সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপি। ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক জন সদস্য দুই জোটের একাধিক শরিকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার না পেলে আইনজীবীরাও বসে থাকবে না, রাজপথে নামবে।

বিজনেস আওয়ার/১০ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে