businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬


বন্দরেই বন্দি আমদানি করা পেঁয়াজ!

০৩:০১পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : সারাদেশে যেখানে পেঁয়াজ নিয়ে নৈরাজ্য চলছে, সেখানেআমদানি করার পরও তা খালাসে গড়িমসি করছে ৭টি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনেকরছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা। আমদানি করা পেঁয়াজ কেন দ্রুত খালাস করাহচ্ছে না তা অনুসন্ধান করতে এনবিআর থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ৭টি প্রতিষ্ঠান চীন ও পাকিস্তান থেকে ৬০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পেঁয়াজ আমদানি করে। আমদানি করা এসব পেঁয়াজ কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকলেও তারা রহস্যজনক কারণে খালাস করছে না। এনবিআরের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দাম কম ও সহজ পরিবহনের কারণে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ আমদানি বাড়ানো এবং নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার অনুরোধ করা হয়।

এর পরও কোনো ব্যবসায়ী অবৈধ ভাবে পেঁয়াজ মজুদ, কৃত্রিম উপায়ে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা, স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রায় প্রতিদিনই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ আটকে রেখে বাজারে দাম বাড়াতেই এ অপকৌশল নেওয়া হয়েছে।

আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানি ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থল ও নৌবন্দরগুলোয় আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

সে মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানি করা পেঁয়াজ খালাস করার কথা। তবে এ ক্ষেত্রে আমদানি করা কোনো প্রতিষ্ঠান খালাসে গড়িমসি করে তা হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সুত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে আছে ৬০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এ পেঁয়াজ আমদানি করেছে নাবিনা ফ্রুটস ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স সাউদার্ন ট্রেডিং, নূর এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আয়নাল অ্যান্ড সন্স, মেসার্স সিকদার ভেনচার, মেসার্স ব্রাদার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স ব্রাদার ইমেপক্স।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশের অনেক অসাধু ব্যবসায়ী একটু সমস্যা দেখা দিলেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। তারা যেন পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, সে জন্য মনিটরিং টিম কাজ করছে।

উল্লেখ্য, পেঁয়াজের বাজারের অস্থিরতার শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখ থেকে। ওইদিন ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য টনপ্রতি সাড়ে তিনশ ডলার থেকে সাড়ে আটশ ডলার করার ঘোষণা করায় ৪০ টাকার পেঁয়াজ ৭০ টাকায় উন্নীত হয়। এর পর একই মাসের ২৯ তারিখে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা করে।

সে সময় রাতারাতি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১৩০ টাকায় উঠেছিল। কিন্তু এটি আবার কমে ৭০-৯০ টাকার মধ্যে আসে। কিন্তু তা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। দ্রুতই ১০০ টাকা, পরের ধাপে ১১০ টাকা এবং সব শেষে গতকাল দেশি পেঁয়াজ ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ঢাকার বাজারে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়।

ভোক্তাদের দাবি, বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে। কারণ বাজারে গেলে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা যায় না। দাম যখন বেড়ে যায় তখনই সব দোকানদার একসঙ্গে বাড়ায়। এটা সম্ভব তখনই, যখন বিক্রেতারা একজোট থাকে।

অন্যদিকে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষছেন আমদানিকারকদের। তাদের দাবি, মূলত আমদানিকারকরাই দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছেন আড়ালে। তাদের নির্ধারিত দামের বাইরে অন্য দামে পেঁয়াজ বিক্রি সম্ভব নয়।

সুত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেট করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের বাজার অস্থির করেছেন। বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর পেঁয়াজ কারসাজিকারকদের তলব করে। কিন্তু তার পরও বসে নেই পেঁয়াজ কারসাজিকারকরা। একদিকে ব্যবস্থা নিলে তারা নতুন পন্থায় দাম বাড়ান।

বিজনেস আওয়ার/১০ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে