businesshour24.com

ঢাকা, শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬


'কুষ্ঠ রোগের হার কমাতে সরকার কাজ করছে'

১২:৪৯পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : কুষ্ঠরোগসহ অন্যান্য রোগের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। সেই সাথে কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের মানসিকতা পরিবর্তনেও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত কুষ্ঠবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুষ্ঠরোগীদের দেখে দূর-দূর ছেই ছেই করবেন না। তাদের আলাদা করে রাখবেন না। এটা অভিশাপ নয়, চিকিৎসা দিলে এরাও ভালো হয় এবং সুস্থ জীবনে ফিরে যায়। এটা আমি প্রমাণ করেছি। কুষ্ঠরোগীদের সেবা দেয়া, সহায়তা করা এবং সহানুভূতির সঙ্গে তাদের দেখার জন্য অনুরোধ জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই কুষ্ঠরোগীদের জন্য গাজীপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হলো। ৭০টি পরিবারকে সেখানে আশ্রয় দেয়া হলো। সরকারির পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও অনেকে এগিয়ে এল। সেখানে বসবাস করা অনেকেই এখন রোগমুক্ত হয়েছে। তারা এখন সমাজের অন্য মানুষের সঙ্গে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের এখন আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে না। তারা এখন আর অবহেলার পাত্র নয়।

কুষ্ঠরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহজ করতে দেশের ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীদের জন্য ওষুধ উৎপাদন ও বিনামূল্যে তা সরবরাহ করতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করলে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হবে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুষ্ঠ রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা এবং তাদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যে সব এলাকায় কুষ্ঠরোগী বেশি, সে সব এলাকায় বিশেষ নজর দিলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগীদের ঘরে বাইরে আসার সুযোগ করে দিতে ও স্বাভাবিক জীবন দিতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা ও বাইরের পৃথিবী দেখার সুযোগ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি।

কুষ্ঠ নির্মূলে গবেষণার প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুষ্ঠরোগ কোনও অভিশাপ নয়। জীবাণুর সংক্রমণে এ রোগের বিস্তার। এর জন্য দেশীয় গবেষকদের প্রয়োজনীয় গবেষণায় আত্মনিয়োগ দরকার। সবাই এগিয়ে আসলে ২০৩০ সাল নয়, এরআগেই কুষ্ঠরোগকে শূন্যমাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব।

দেশের কুষ্ঠরোগীদের নিয়ে যে সব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করছে তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এ কাজে আরও অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩০ সাল লাগবে না তার আগেই আমরা বাংলাদেশকে কুষ্ঠরোগ মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ বেডের হাসপাতাল গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও দেশের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পদক্ষেপ হিসেবে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের গ্রামগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নিপপন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া।

বিজনেস আওয়ার/১১ ডিসেম্বর, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি
শাহবাগে ফের বিক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি

উপরে