ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬


বেসরকারি খাতে ঋণ পরিস্থিতির ভয়ানক অবনতি

০৮:৫০এএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : বেসরকারি খাতে ঋণ পরিস্থিতির ভয়ানক অবনতি হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত নভেম্বরে এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ পরিস্থিতিকে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সুত্রে জানা গেছে, নভেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অক্টোবর শেষে যা ছিল ১০ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ আগের মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে দশমিক ১৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা ৪ শতাংশ কম। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।

অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৩ সালে ও ২০০৪ সালে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে নেমেছিল। ২০০৫ সালে এটি বেড়ে ১২ শতাংশ উন্নীত হয়। এরপর থেকে একক মাস হিসেবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কখনও সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্কে নামেনি।

বেসরকারি খাতে ঋণের এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, এই উদ্বেকজনক পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন সংকট দেখা দিয়েছে। বেসরকারি খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যাদের ঋণ দরকার, তারা ঋণ পাচ্ছেন না। সুদের হার বেশি হওয়ায় অনেকে ঋণ নিচ্ছেনও না। বেসরকারি খাতে নেতিবাচক ঋণ পরিস্থিতি তারই প্রমাণ। বলা হচ্ছে, কয়েক দশকের মধ্যে এখন সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। একদিকে উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের শুরুতে ঋণপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনতে ঋণ- আমানত অনুপাত (এডিআর) কিছুটা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। কয়েক দফা এডিআর সমন্বয়ের সীমা বাড়ানো হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না। নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত আছে।

আমদানি ও রফতানি কমে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগে আশানুরূপ গতি না আসাসহ বিভিন্ন কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমেছে।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এটা খুবই উদ্বেগের যে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা মুদ্রানীতির লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম।

মির্জ্জা আজিজুলের মতে, এখন বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি আছে। অর্থাৎ শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে কলকারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি কমেছে ১০ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ২০ শতাংশ।

টানা ২ বছর ধরে অব্যাহতভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে এই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ছিল ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ।

বিজনেস আওয়ার/০৯ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে