ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬


তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লির ঢল

১২:৪২পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ রাজধানীর অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হয়েছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। আলেমি শুরার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত প্রথম পর্বে যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেছেন। আজ দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আজ প্রথম দিন। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে সময় কাটাচ্ছেন। তবে শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মুসল্লিদের প্যান্ডেলের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।

এবারের ইজতেমা বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিশ্ব মুসলিমের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় জমায়েত দেশ বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। বিশ্ব ইজতেমায় এবারও পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) দুপুরের আগেই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব।

বিশ্বের ৩৫টি দেশের দুই হাজার বিদেশি মুসল্লি ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের মুসল্লিরা আসার পথে রয়েছেন। মুসল্লিদের উদ্দেশে শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করবেন পাকিস্তানের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খূরশেদ। জোহরের নামাজ পড়াবেন বাংলাদেশের মুরব্বি মাওলানা যোবায়ের হাসান। এরপর বাদ জোহর বয়ান করবেন ফান্সের মাওলানা শেখ ইউনুস, বাদ আসর মাওলানা এহসান, বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আহম্মদ লাট।

বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে টঙ্গীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১০ হাজার সদস্য। ইজতেমা প্রাঙ্গণের প্রতিটি প্রবেশপথে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। আগত মুসল্লিদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন।

র‌্যাবের মুখপ্রাত্র লে. কর্নেল সরওয়ার-বিন-কাশেম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় বাড়তি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠের ভেতর ও বাইরে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে। র‌্যাবের দুটি হেলিকপ্টার ইজতেমা মাঠের আকাশে টহল দেবে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে ১০টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। নজরদারির জন্য মাঠের চারদিকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এ বছর ইজতেমায় আগের চেয়ে বেশিসংখ্যক মুসল্লি যোগ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে এবার খেত্তার সংখ্যা বাড়িয়ে ৯১টি করা হয়েছে। তুরাগ নদের পশ্চিম পারে অতিরিক্ত তিন একর জমিতে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। ইজতেমার মুসল্লিদের সেবা দিতে এবার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য ১৭টি গভীর নলকূপ থেকে রাত-দিন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা দিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, গাজীপুর সিভিল সার্জন, টঙ্গী শহীদ আহসানউল্লাহ জেনারেল হাসপাতাল, হামর্দদ ল্যাবরেটরিজ, ইবনে সিনা ফর্মাসিউটিক্যালসসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান ফ্রি চিকিৎসাকেন্দ্র চালু করেছে।

বিজনেস আওয়ার/১০ জানুয়ারি,২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে