ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬


আমদানি ব্যয় কমার পরও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

০৫:৪৮পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : আমদানি ব্যয় কমারপরও চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৮ কোটি ডলার। এর আগে আমদানি ব্যয় বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তো। কিন্তু এবার আমদানি ব্যয় কমার পরও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

এই পরিস্থিতির জন্য রফতানি আয় কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টার ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি তারই একটি উপসর্গ। অব্যাহতভাবে রফতানি আয় কমে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে।

তিনি বলেন, আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য ভালো। তবে ক্যাপিটাল মেশিনারি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। আমাদের এখন সেটিই হয়েছে।তাছাড়া ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি কমে যাওয়া মানে হচ্ছে দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর বিনিয়োগ না হওয়া মানে অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি কমেছে ১০ শতাংশের মতো। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ২০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দিন যত যাচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ততই বাড়ছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার নতুন করে ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগস্ট শেষে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়ায় ৫৬২ কোটি ডলার। আর পাঁচ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬৮ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পুরো সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

জুলাই-নভেম্বর সময়ে আমদানি ব্যয়ের তুলনায় রফতানি আয়ের পরিস্থিতি বেশি খারাপ। তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে পণ্য রফতানি থেকে আয় কমেছে ৭.৫১ শতাংশ। আর আমদানি ব্যয় কমেছে ৫.২৬ শতাংশ। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে গেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও এটা নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, রফতানি কিছুটা কমছে, তবে রেমিটেন্স বাড়ছে। আবার আমদানি ব্যয়ও কমে এসেছে। ফলে এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের পাঁচ মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে মোট ২ হাজার ২২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে বাংলাদেশ। আর পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৫৫২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল এক হাজার ৬৭৮ কোটি ডলার। আমদানি ব্যয় হয়েছিল দুই হাজার ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

বিজনেস আওয়ার/১১ জানুয়ারি, ২০১৯/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে