ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬


মজনুকে নিয়ে সন্দেহের অবকাশ দূরীভূত হোক!

০৪:১২পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০

লাইলি মজনু সাহিত্যের অন্যতম আলোচিত একটি সৃষ্টি হলেও আমাদের আজকের আলোচ্য মজনু কিন্তু সেই সাহিত্যের অংশীদার নয়। অতি সম্প্রতি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সারাদেশ উত্তাল হয়েছিল। এখনো উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বিভিন্ন সংগঠন গুলো প্রতিবাদমুখর হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ সহ সকল ধর্ষকের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে সারাদেশেই ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে, তারমধ্যে আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ছাত্রী ধর্ষণ।

উল্লেখ্য, পরীক্ষার আগের রাত্রে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিল আলোচিত ছাত্রীটি। ভুলক্রমে শেওড়ার পরিবর্তে ক্যাম্পাসের গাড়ি থেকে নেমে ছিল কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে, সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ০৭:৩০মিনিট। কুর্মিটোলা থেকে শেওড়ার দিকে পায়ে হেটে যাওয়ার সময় কে বা কাহারা পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে নির্জন অন্ধকার রাস্তার ধারে জঙ্গলের মধ্যে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে মেয়েটির জ্ঞান ফিরে পেলে জঙ্গলের মধ্যে নিজেকে আবিস্কার করে। তারপর মেয়েটি তার বন্ধু-বান্ধবের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেই রাত্রেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকে। হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখার ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে ছুটে যায়।

পরের দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদে ধর্ষকের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত হয়। প্রশাসনের সর্বোচ্চ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায় পরবর্তীতে প্রশাসন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায়। সেই সাথে আরো বলেন আমাদের সন্দেহের তালিকায় আরো কয়েকজন আছে।

পরবর্তীতে মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা ধর্ষকের ছবি দেখতে পাই, বিপত্তিটা মূলত সেখানেই ঘটে ধর্ষকের জীবন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায় তার ডাকনাম মজনু তার জন্ম রাস্তাতেই তাঁর পিতা ছিলেন ভিক্ষুক ও ভবঘুরে। সে নিজেও স্বাভাবিক মস্তিষ্কের একজন মানুষ নয় বলেই মনে হয়। তার শারীরিক অবস্থা দেখলে মনে হয় নেশাগ্রস্ত মানসিক বিকারগ্রস্ত বিপন্ন একজন মানুষ। জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই মানুষটির পক্ষে কেমন করে ধর্ষণ করা সম্ভব হল!

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই মজনু রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে নিজেই ধর্ষক, সে আরো বলেছে এর আগেও সে অসংখ্য রাস্তার ভবঘুরে মহিলাকে ধর্ষণ করেছে, সেই সাথে চুরি ছিনতাই মাদকের কারবার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা আলোচিত হতেই আলোচিত হয় আলোচিত তনু ধর্ষণের কথা, তনু ধর্ষণের দীর্ঘ সময় পার হয়েছে এখনো চার্জশিট কিবা বিচার প্রক্রিয়া কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। সেইসঙ্গে তৈরি হয়েছে মজনুকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা মজনু কি সত্তিই ধর্ষণ করেছে? নাকি তাকে ধর্ষণের আসামী সাজিয়ে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে? এদেশের মানুষ বিচারের নামে কোন জজ মিয়া নাটক আর দেখতে চায় না!!

এ দেশের সমগ্র মানুষের বাস্তবিক বিষয়টাকে উপলব্ধি করাতে হবে মজনু কি ধর্ষক নাকি একটা বদ্ধ পাগলকে ধর্ষক বানিয়ে সাধারণ জনতাকে ভুল বোঝানো হচ্ছে!

লেখক- মোঃ সবুর মিয়া, বেসরকারি চাকরিজীবি।

বিজনেস আওয়ার/২০ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে