ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা ও সার্ভিসের দুরাবস্থা

০৬:২৭পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা ও সার্ভিসের গুণগত মান একেবারেই নিম্ন পর্যায়ে চলে আসছে। নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে না। ইতিমধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে আশঙ্কাজনক ভাবে ভূইফোঁড়ে নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের শিক্ষা ও সেবা বিভাগের অধিনস্ত এইসব নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কোনো তদারকি এবং মান নিয়ন্ত্রণের কোনো বালাই নেই। তাদের হাসপাতালের নিজস্ব কোনো জায়গা জমি নেই। শুধুমাত্র ভাড়া করা স্থানে কয়েকটি রুম দেখিয়ে এবং নামমাত্র কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্বাক্ষর নিয়ে এই সব প্রতিষ্ঠান লাগামহীনভাবে বছরের পর বছর নবায়ন করে যাচ্ছে। এদের নেই কোনো মানসম্পন্ন শিক্ষক, শিক্ষিকা, ক্লাস রুম, ল্যাবরেটরি রুম। তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অধ্যক্ষ পদগুলোতে গোজামিল দিয়ে প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইকারী কাউন্সিলের রেজিষ্ট্রার মিসেস সুরাইয়া বেগম এবং ডেপুটি রেজিষ্ট্রার মিসেস রাশিদা আক্তারকে অবহিত করা হলে তারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ নার্সিং এবং মিডওয়াইকারী কাউন্সিলে নার্স এবং মিডওয়াইফদের রেজিষ্ট্রেশন নবায়ন ছাড়া তেমন কোনো কাজ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সম্প্রতি একটি জরিপে এসমস্ত বিষয় উঠে এসেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে ২০৪টি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ৬৬টি নার্সিং কলেজ এবং ২৮টি মিডওয়াইকারী ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেছে। যা বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইকারী কাউন্সিল কর্তৃক নিবন্ধিত। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে ১০ হাজারের বেশি নার্স মিডওয়াইফ পাস করে বের হচ্ছে। এদের মাঝে অনেকেই সার্টিফিকেট সর্বস্ব। তাদের মাঝে অনেকেরই নার্সিং করার মতো দক্ষতা গড়ে উঠেনি। অনেকেই রোগীদের যথাযথভাবে ইনজেকশন দেয়া, ইনসুলিন দেয়া, ক্যাথেটার পড়ানো, বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে অপারদর্শিতার পরিচয় দিয়ে আসছে। যার ফলে রোগী সাধারণ প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা, রোগীদের যথাযথ বেড শিট, বালিশের কভার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করে জীবানুমুক্তভাবে রোগীদের সেবা প্রদান করা যদিও নার্সিং সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু হাসপাতাল সমূহে অনানুষ্ঠানিক পরিদর্শন করলে রোগীদের অবর্ণনীয় দু:খ কষ্ট চোখে পড়ে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষেত্র বিশেষে উদাসিনতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে দেশের অনেক রোগী চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশে চলে যাচ্ছে। যার জন্য এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রতি সাধারণ মানুষের তেমন কোনো আস্থা নেই। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া তেমন কোনো আহামরি বিষয় না হলেও দেশের অনেক অর্থ চিকিৎসার নামে বিদেশ চলে যাচ্ছে। অন্য দিকে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এদেশের ডাক্তার-নার্সদের বিদেশে চাকরির বিপুল সম্ভাবনাময় বাজার আমরা হারাচ্ছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ফরাজী
ই-মেইল : [email protected]

বিজনেস আওয়ার/২৩ জানুয়ারি,২০২০/আরআই/পিএস

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে