ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১

১০:৩৬এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চীনা কর্তৃপক্ষ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। একদিন আগেও ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৬।

জানা গেছে, চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া এ ভাইরাস ইতোমধ্যেই রাজধানী বেইজিংসহ চীনের ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২০ বছরে চীন এবং বাকি বিশ্বের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট যোগাযোগ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।

উহানের এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দা এখন সরাসরি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গন্তব্যের পাশাপাশি বাড়ির কাছের সিউল, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে যেতে পারে। সে কারণেই ভাইরাসটি চীনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স ও সৌদি আরবসহ অন্তত ১১টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। এখন পর্যন্ত দুনিয়াজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত এক হাজার ২৮৭ জন।

চীনে আক্রান্ত ও মৃতের বেশিরভাগ খবর মূলত হুবেই প্রদেশ থেকেই আসছে। শুক্রবার ন্যাশনাল হেলথ কমিশন দেশজুড়ে মোট ৮৩০টি সংক্রমণের কথা নিশ্চিত করে। তবে জাতীয় পর্যায়ে এ সংক্রান্ত বিশদ কোনও ডাটা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহর থেকে বের হওয়ার অনুমতি মিলছে না বাসিন্দাদের। তবে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন।

এরইমধ্যে আক্রান্তদের চিকিৎসায় নতুন একটি হাসপাতাল নির্মাণের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ২৫ হাজার বর্গফুটের হাসপাতালটি রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কাজ শুরু করবে। যাতে শয্যা থাকবে এক হাজার।

আর ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য চীনের অন্তত ১৪টি শহরে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনেক পর্যটন স্পট ও খাবারের আন্তর্জাতিক চেইন শপ।বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

এদিকে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া চান্দ্র নববর্ষের সপ্তাহব্যাপী ছুটিতে লাখ লাখ চীনা নাগরিকের ভ্রমণের পরিকল্পনা বা কর্মসূচি রয়েছে। এতে করে এ ভাইরাসে সংক্রমণের হার আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীন ফেরত যাত্রীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লু-র মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি বা নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে। এ ভাইরাসের কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজনেস আওয়ার/২৫ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৮৮৮৪ জন
করোনায় মৃত সাড়ে ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে

উপরে