ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬


বিদেশ ফেরত শ্রমিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে!

১১:২৪এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : প্রতিদিন সৌদি আরব, কাতার, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ফিরছেন প্রবাসী শ্রমিকরা৷ তাদের দেশে ফেরার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ফেরত আসা শ্রমিকেরা বলছেন, তাদের অনেকেরই কাজের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবুও কেন ফিরতে হচ্ছে, জানেন না তারা।

প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে ২১৭ জন বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ২৫ হাজার ৭৮৯ জন।

মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭ জন, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬ জন, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫ জন, কাতার থেকে দুই হাজার ১২ জন, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ জন ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ জন শূন্য হাতে ফিরেছেন।

ফেরত আসাদের মধ্যে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সুজন মিয়া ও তার ভাই মিন্টু মিয়া। সুজন পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে মাত্র চার মাস আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। আর মিন্টু যান ২৩ মাস আগে। মিন্টুর আকামার মেয়াদ আরো পাঁচ মাস থাকলেও সুজনের আকামা তৈরি করে দেননি নিয়োগকর্তা। কিন্তু দুই ভাইকেই কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশ আটক করে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

কিশোরগঞ্জের মো. শোয়েব আহম্মেদ বলেন, ১২ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদে কাপড়ের ব্যবসা করছি। ভালোই উপার্জন করতাম এবং আমার দোকানে কোটি টাকার মত মালপত্রও ছিল। মালিককে দুই লাখ টাকা এবং দোকানের অগ্রিম তিন লাখ টাকাও দিয়েছিলাম। কাগজপত্রসহ সব কিছু ঠিক থাকার পরও সৌদি পুলিশ রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পরে দেশে ফেরত পাঠায়।

অন্যদিকে প্রবাসে গিয়ে কষ্টের আয়ে যেসব নারী শ্রমিক বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। তারা সেখানে শারীরিক, মানসিক, এমনকি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছেন। গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১২৯ নারীর মরদেহ এসেছে। শুধু সৌদি আরব থেকে মরদেহ ফিরেছেন ৫৭ নারীর। যার মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ২৪ নারী।

জানুয়ারিতে ফিরে আসাদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেলিনা আক্তার ও শামিমা বেগম গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নির্যাতনের মুখে তারা প্রথমে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন জেদ্দায়। তাদের সঙ্গে যোগ হন আরো ১৫ জন নারী। পরে তারা সবাই দেশে ফিরে আসেন।

এদিকে বিদেশে নারী কর্মীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদেও বিদেশে নারী শ্রমিকদের না পাঠানোর জোর দাবি ওঠে।

প্রবাসীদের দেশে ফেরত আসা প্রসঙ্গে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, গত চার বছরে সৌদি থেকে ১৫২ নারীর মরদেহ দেশে ফিরেছে৷ তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ৩১ জন৷ বাকিদের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়৷ পরিস্থিতি বিবেচনায় গৃহশ্রমিক হিসেবে না পাঠিয়ে বরং নার্স, পোশাক শ্রমিক বা অন্য কোনো পেশায় নারীদের পাঠাতে পারলে ভালো হয়৷

তিনি আরো বলেন, যেসব পুরুষ শ্রমিক কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন, তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলা‌দে‌শের যে যৌথ বৈঠক হ‌বে, সেখা‌নে নারী কর্মী‌দের‌ পাশাপা‌শি পুরুষ‌দের বিষয়‌টি নি‌য়েও কথা হ‌বে। বিশেষ ক‌রে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ কর‌লে সব কিছুর সমাধান হবে।

বিজনেস আওয়ার/২৮ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে