ঢাকা, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬

২শ জনকে বাংলাদেশে না আসার নির্দেশনা

পর্যবেক্ষণে পদ্মাসেতু প্রকল্পের ২২ চীনা নাগরিক

১১:০৮এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনে সিনো হাইড্রো কর্পোরেশনের প্রায় এক হাজার ১০০ চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিক পদ্মাসেতু প্রকল্পে কাজ করছে।গেল ২৫ জানুয়ারি চীনা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় দুই শতাধিক প্রকৌশলী-শ্রমিক ছুটিতে চীনে অবস্থান করছেন।

কিন্তু চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ভয়াবহতা বাড়ছেই। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিককে সেদেশেই থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সেতু প্রকল্পে কাজ করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বাংলাদেশে কর্মরত ২২ জন চীনা প্রকৌশলী-শ্রমিককে চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২২ জানুয়ারির পর চীন থেকে কোনো শ্রমিক-প্রকৌশলী আসতে দেওয়া হয়নি। তবে ২২ তারিখের আগে আসা ২২ জন শ্রমিক-প্রকৌশলীদের প্রকল্প এলাকায় পৃথকস্থানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছ।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পদ্মাসেতুতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সচেতনতামূলক সভা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পদ্মাসেতুতে যেসব চীনা শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন তাদের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সিন্ড্রোম নেই। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যারা চীনে ছুটিতে রয়েছেন তাদের সেদেশেই থাকার জন্য বলা হয়েছে।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে সার্বক্ষণিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিক্যাল ইউনিট রয়েছে। চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে দেশি শ্রমিকরা স্বাভাবিক ভাবেই কাজ করছেন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সেতুতে কর্মরত শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পদ্মাসেতুতে সতর্কতামূলক নানা কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়েছে।

যেসব চীনা শ্রমিক পদ্মাসেতুতে কর্মরত রয়েছেন তাদের চলাচলে বাড়তি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চায়নাদের বাসস্থানের ভেতরেই বেশিরভাগ সময় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে দেশি শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মূল সেতুর প্রকৌশলী জানান, করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে পদ্মাসেতু প্রকল্পে সচেতনতামূলক একাধিক সভা হচ্ছে। সভায় সতর্কতামূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। চীনা নববর্ষ উপলক্ষে পদ্মাসেতু থেকে প্রায় দুই শতাধিক চীনা শ্রমিক-প্রকৌশলী সেখানে আটকা পড়েছেন। তাদের বাংলাদেশে না আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চীনে পদ্মাসেতুর নানা কাজ চলছে, সেখানে পাঁচজন বাংলাদেশিও আটকা পড়েছেন। বেশিরভাগ চীনা শ্রমিক বিদেশে থাকায় কাজে ধীর গতি দেখা দিয়েছে।এক সপ্তাহ দেখার পর কাজের গতি ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত জাজিরা প্রান্তে কোনো শ্রমিকের সেরকমভাবে অসুস্থ হওয়ার খবর মেলেনি।

এছাড়াও মাওয়া প্রান্তেও কোন চীনা শ্রমিক অসুস্থ হননি। যেসব চীনা শ্রমিক ও প্রকৌশলী কাজ করেন তারা প্রকল্প এলাকায় আলাদাভাবে বসবাস করে থাকেন। বাইরে যেতেও নানা নির্দেশনা আছে তাদের। রাতে বাইরে যেতে হলে পুলিশের প্রয়োজন হয়। সেতুতে চীনা ও বাংলাদেশিরা একসঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছেন।

যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেতুতে চীনা শ্রমিক ও দেশি শ্রমিকরা প্রতিদিন মাস্ক পরেই কাজে আসছেন। এছাড়া যারা অফিসে কাজ করছেন তারাও মাস্ক ব্যবহার করেই বের হচ্ছেন।সতর্ক থাকার জন্য সবাইকেই বলা হয়েছে। তবে সেতু এলাকায় কোনো আতংক নেই। স্বাভাবিক দিনের মতোই সেতুতে কাজ চলছে। কোনো সমস্যাও হচ্ছে না।

বিজনেস আওয়ার/২৯ জানুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে