ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬


ভারতের আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু

১১:৪১এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রায় পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানি খাতুন হত্যা মামলার শুনানি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র বিচারপতি ড. ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি কেএম জোসেফকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর-দিনহাটা সীমান্তের খিতাবেরকুঠি এলাকায় বিএসএফের সদস্যরা ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যার জন্য বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের জওয়ানদের দায়ী করা হয়। বিএসএফের বিশেষ আদালতে মামলা চলে।

কিন্তু ওই মামলায় অভিযুক্ত জওয়ান অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেওয়া হয়।যার প্রক্ষিতে ২০১৫ সালের আগস্টে কলকাতার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ এর সম্পাদক কীরিটি রায় এবং ফেলানীর বাবা মো. নূর ইসলাম হত্যা মামলার রায় পুনঃবিবেচনার জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনে ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব, বিএসএফের মহাপরিচালক এবং সিবিআইর পরিচালককে বিবাদী করা হয়।সেই অব্যাহতিকে চ্যালেঞ্জ করেই ভারতের বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের শরাণাপন্ন হয়।

তাদের দায়ের করা মামলাতেই অনেকদিন পর শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এর শুনানি শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কাগজপত্রে অবশ্য মামলাটি 'মুহম্মদ নূর ইসলাম (ও আরও একজন ব্যক্তি) বনাম ভারত রাষ্ট্র (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)' নামেই নথিবদ্ধ হয়েছে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফেলানি হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএসএফকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার যুক্তি, শীতের সকালে ঘন কুয়াশার কারণে বিএসএফ সদস্যরা ফেলানিকে দেখতে পাননি, তারা চোরাকারবারি সন্দেহেই কাঁটাতারের বেড়া টপকানোর সময় গুলি চালিয়েছিলেন।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৮ মার্চ। ওই দিন বাদী পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করার কথা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংস্থা-মাসুম ও তার কর্ণধার কিরীটি রায় এই মামলার অন্যতম পক্ষ।

তিনি বলেন, এতদিন বাদে যে ধুলো ঝেড়ে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার কাগজপত্র টেনে বের করলেন, সেটাকে আমরা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছি। আমরা এখনও সুপ্রিম কোর্টের ওপর ভরসা হারাতে রাজি নই। যতই দেরি হোক, ভারতের শীর্ষ আদালতে ফেলানির পরিবার সুবিচার পাবেন—এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা মামলা চালিয়ে যাবো।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ফেলানির লাশ যেভাবে ঝুলছিল, সেই মর্মান্তিক দৃশ্য আজও ভোলেননি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ।

বিজনেস আওয়ার/১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৮৮৮৪ জন
করোনায় মৃত সাড়ে ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে

উপরে