ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


মারজুক রাসেলকে 'তাচ্ছিল্য', ফারুকীর কড়া জবাব

০৪:৩৪পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : এবার অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশ হয়েছে অভিনেতা ও গীতিকার মারজুক রাসেলের কবিতার সংকলন 'দেহবন্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর'। ইতোমধ্যেই ১০ হাজারের বেশি বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে বইটির প্রকাশনা সংস্থা- বায়ান্ন' ৫২'। বইটি নিয়ে মারজুকের ভক্তদের হুড়োহুড়ি বেশ আলোচনাও তৈরি করেছে।

এরই মধ্যে 'মারজুক রাসেল কেডায় আসলে?' লিখে মারজুককে তাচ্ছিল্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক ও শিক্ষক আজফার হোসেন। তবে তার এই মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি দেশের অন্যতম গুণী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও মারজুকের ভক্তরা। এই নিয়ে চলছে কড়া সমালোচনাও।

এই প্রসঙ্গে রোববার ফারুকী তার ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দেন। বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

'ফেসবুকে মতামত দেওয়া থেকে বিরত আছি বহুকাল। কিন্তু একটা বিষয়ে হইচই দেখে কথা না বলে পারলাম না। মারজুক রাসেলের কবিতার বই বিক্রি হচ্ছে। এটি নিয়ে অনেকেই তাদের বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

মারজুক আমার গভীর গোপনতম ভাইব্রাদার। শুরুর দিকে ও যখন আমার সঙ্গে থাকতে শুরু করে, তখন থেকেই ওর ওপর এলিটিস্ট অবজ্ঞা দেখে আসছি। প্রথম থেকেই এই অবজ্ঞারে ঝাঁটা মারা আমার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে আমি তুলে নিছিলাম।

সেটি করছি কোনো কথা না বলে! একসঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে। এই অবজ্ঞার আরেকটি নমুনা দেখলাম আজফার হোসেনের পোস্টে। সেখানে উনি মারজুক রাসেল কে? এটি জানতে চাইছেন। তা জানতে চাইতেই পারেন। না জানলে জানতে চাওয়াটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু এই ধরনের পোস্টের উদ্দেশ্য যে 'জানতে চাওয়া' না হইয়া 'তুচ্ছ করতে চাওয়াও' হতে পারে, এটি আজকের শিশুরাও বোঝে।

আজফার ভাইয়ের কাজকর্মের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। সত্যিই যদি উনি জানতে চাইতেন, তা হলে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই পারতেন। বা ওর দুয়েকটা কবিতা ঘেঁটে পড়লেও পারতেন। পড়ার পর উনার ভালো লাগতে পারত, খারাপও লাগতে পারত। উনি ভাবতেই পারতেন এই কবিতার বই কেনার কী আছে। মানুষের হরেক রুচি। কারও এটি ভালো লাগে, তো আরেকজনের অন্যটা ভালো লাগে।’

ফারুকী আরও লিখেন, ‘কিন্তু এইটুকু পরিশ্রম না করে 'জানতে চাওয়া' বিষয়ক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আমার মনে হয় উনি কাউকে বাতিল করার এলিটিস্ট তরিকাটি অ্যাপ্লাই করলেন। উনার (এবং উনার মতো আরও অনুসন্ধিৎসুদের) সুবিধার্থে মারজুকের পরিচয় নিচে সংযুক্ত করা হইল :

নাম : মারজুক রাসেল
মাতা : হোসনে আরা
পিতা : শেখ সিকান্দার
সাং : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ
জন্ম : ১৫ আগস্ট, কোনো এক সময়।

শুধু ফারুকীই নয় আজফার হোসেনের এমন মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন অনেকেই। সাপ্তাহিক এই সময়ের সহযোগী সম্পাদক সকৃত নোমান লিখেছেন, মারজুক রাসেল আগে কবি, তারপর গীতিকার, তার পর অভিনেতা। তিনি যাপনও করেন কবিজীবন।

এই তথ্যগুলো শ্রদ্ধেয় আজফার হোসেন যে কাউকে ফোন করে জেনে নিতে পারতেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানতে চাইলেন। এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। পোস্ট দিয়ে তিনি জানতে চাইতেই পারেন। কিন্তু তার জানতে চাওয়ার মধ্যে বিদ্রূপ স্পষ্ট।

বিজনেস আওয়ার/১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে