ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


রাইডারদের ডাকা-ডাকিতে বিরক্ত পথচারীরা

০৫:৪৬পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো শুরুর দিকে বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও দিনেদিনে সেবার মানসহ নানান দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠায় অ্যাপস ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। কারণ হিসাবে দেখা হচ্ছে, অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রী না নিয়ে ডাকা-ডাকি করে দর কষাকষি করা, রাইডারদের সুবিধামত জায়গায় না হলে রাইড বাতিল করা, যাত্রা করার আগে ভাড়া কম দেখালেও পরে তা দিগুণ আদায় করা।

তাছাড়া কম দূরত্বে না যাওয়া, ডিসকাউন্ট থাকলেও তা মানতে নারাজ, অফিস আওয়ারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ চালকদের খারাপ ব্যবহারের কারণে রাইড শেয়ারিং সেবার প্রতি যাত্রী সাধারণের অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। রাজধানীর- মতিঝিল, গুলিস্থান, শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজারের দুইটি পয়েন্ট, ফার্মগেট, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্ত্বর এলাকায় প্রায় ১৫-২০টি মোটর সাইকেল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সেবা দানকারী মোটর সাইকেলগুলোর কাছে যেতেই মামা 'কই যাবেন' বলে ডাকা-ডাকি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে 'যাব না' বলতে বলতে বিরক্তি ধরে যায় সাধারন পথচারীরা। সেবা গ্রহণকারী এক যাত্রী বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে প্রতিদিন অফিস শেষ করে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় এসে দাঁড়ালেই মৌমাছির মতো ঘিরে ধরে বাইক চালকরা। সবাই- কই যাবেন? কই যাবেন? বলে চিৎকার করে। এটা কেমন ব্যবহার!

তিনি আরও বলেন, আমার কাছে বেশ অবাক লাগে। মোটরসাইকেল তো ডাকাডাকি করার কথা না। অ্যাপের মাধ্যমে কল দিলে তবেই আমি কোথাও যেতে পারবো। তবে ঢাকাতে এমন কেন?

উল্লেখ্য, বছর তিনেক আগে রাজধানীতে রাইড শেয়ারিংয়ের যাত্রা শুরু হয়। উবার ছাড়াও রাজধানীতে পাঠাও, আমার রাইড, মুভ, বাহন, চলো, ইজিয়ার, বিডিক্যাবস, ঢাকা মটো, ঢাকা রাইডার্সসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা দিচ্ছে।

তবে এর মধ্যে উবারের গাড়ির সংখ্যা বেশি। ঢাকায় যানজটে নাকাল বাসিন্দারা প্রথম দিকে এই সুবিধা বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রশংসার স্থলে নিন্দা করতেও দ্বিধা করেননি সাধারণ মানুষ।

মোটরসাইকেল চালকরা অ্যাপসে যাত্রী না নিয়ে চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। শহরের প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে রিকশার মতো সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ডাকাডাকি চলছেই তাদের। এসব নিয়ে অভিযোগের যেমন শেষ নেই তেমনি ঘটছেও নানা দুর্ঘটনা।

অ্যাপসের মাধ্যমে চলাচল করা যাত্রীদের অভিযোগ, এই ডাকাডাকির ব্যাপারটি খুবই বিরক্তির। মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার করার প্রক্রিয়া শুধুমাত্র অ্যাপের মাধ্যমে। আর সেটা যদি সিএনজি কিংবা রিকশার যাত্রী বহনের পর্যায়ে চলে যায় তবে সেটা দুঃখজনক। এদিকে অ্যাপ ছাড়া মোটরসাইকেলে চলাচল করেন এমন আরেক যাত্রী বলেন, রাইডার পেতে সময় লাগে। তারওপর ভাড়া বেশি দেখায়। আবার অনেক সময় সার্চ করতে করতে আর পাওয়াই যায় না। এজন্য অ্যাপস বাদ দিয়ে চুক্তিতে চলে যাই।

চুক্তিতে যাওয়া ঝুকিপূর্ণ জেনেও এই যাত্রী আরো বলেন, দুর্ঘটনা তো ঘটেই। সেটা জানি। কিন্তু জরুরি সময়গুলোতে অ্যাপসে নেটওয়ার্ক বিজি দেখানোর কারণে ঝুঁকি নিয়েই চলে যাই। উপায়ন্ত না দেখেই এমন ভাবেই যাতায়াত করতে হয়।

অবশ্য রাইডাররা বলছেন, ভিন্ন কথা। তারা জানান, ডাকাডাকির কারণ অন্য। অনেক সময় যাত্রীদের মোবাইলে চার্জ থাকে না, কারও অ্যাপস থাকে না আবার কারো চলতি পথেই ডাটা শেষ হয়ে যায়। এসব কারণেই ডেকে জিজ্ঞাস করেন, কোথাও যাবেন কিনা!

এক রাইডার বলেন, অ্যাপস যাত্রী নিলেও সেটা কম। চুক্তিতে নেয়ার কয়েকটি কারণ। তারমধ্যে প্রধান হলো, অনেক যাত্রীর ডিসকাউন্ট থাকে। তখন আমার এক লিটার তেলও কেনার টাকা হয় না। তাই যাত্রী ডাকাডাকি করি।

রাইয়ান নামে এক যাত্রী 'রাইড শেয়ারিং উবার অফ বাংলাদেশে' অভিযোগ করে বলেন, বিকাশ এর মাধ্যমে ডিসকাউন্ট আসার পর পাঠাও এখন গাড়ি ডাকার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। বাইকাররা বিকাশে যেতে চাননা অনেকেই।বাইক আসার পর অনেকে বলেন ডিসকাউন্ট না থাকলে অ্যাপ ক্লোজ করি, ভাড়া যা আসছে দিয়ে দিয়েন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, তখন দরকষাকষির সময় থাকেনা। কারণ সকালে একটা রাইড বাসার কাছে আসার পর তাকে না করার মতো ইচ্ছাশক্তি থাকে না।

আরেকজন বলেন, রাইড নেয়ার আগে ভাড়া ১৪০ টাকা দেখায়, কিন্তু ভাড়া আসে ৮০ টাকা। মামাতো ভাইকে রাইড দিছিলাম, বললাম ১৪০ টাকার আশেপাশে আসবে। সে প্রথমবার রাইড নেয়ার কারণে এতকিছু না বুঝেই রাইডারকে ১৫০ টাকা দিয়ে চলে যায়। পরে আমি যখন দেখলাম ৮০ টাকা ওকে কল জিজ্ঞেস করলাম কত দিয়েছো, বললো ১৫০, রাইডারকে কল দিলাম সে আর ফেরত দিলোনা।

তানিয়া আফরোজ নামে এক নারী বলেন, ইদানীং উবার ড্রাইভারদের বেয়াদবি এত বেড়েছে, বলার মত না। তবে এর মধ্যে কেউ ব্যাতিক্রম আছে। ফোন দিলে তারা আগেই জিজ্ঞেসা করে কই যাবেন তারপর পছন্দ না হলে বাজে ব্যবহার করে কেটে দেয়। নিজেরাই ঘুরে তারপর ভাড়া ডাবল করে, তো আমাদের এত কিছু সহ্য করতে হবে কেন? কি শুরু হইছে এগুলা? সমাধান দরকার। সরকারের উচিৎ এগুলোর বিরুদ্ধে এওশনে যাওয়া।

নাফিউর রহমান বলেন, উবারের ডাকাতির একটা লিমিট থাকা দরকার। আজ নাবিস্কো থেকে মহাখালী টিবি গেটের এদিকে গাড়িতে ভাড়া দেখাচ্ছিল ২৪২ টাকা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ৪২৪ টাকা আসছে, কমপ্লেইন করার পর রিফান্ড ও দেই নাই।

বিজনেস আওয়ার/১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে