করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৪৯
১৯
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
১৭৭
৭৪১০৩০
৩৫১১৪

ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬


সালমান শাহ'র আত্মহত্যা; শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা

০২:৪৪পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : মাত্র ২৭টি সিনেমার ছবির সালমান শাহ। এই ২৭ ছবির মধ্যে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন ১৪টি ছবিতে। শুরু থেকেই গুঞ্জন ছিল, শাবনূরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়ক সালমান শাহর।

এদিকে দীর্ঘ তদন্তের পর সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সালমান শাহর মৃত্যুর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেছে পিআইবি। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হত্যাকাণ্ড নয়, আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ।

আর এই আত্মহত্যার পিছনের ৫টি কারণ উল্লেখ করেছে পিবিআই। যার প্রথম কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা।

সালমানের বাসায় রান্নাবান্নার কাজ করা মনোয়ারা বেগম পিবিআইকে জবানবন্দি দিয়েছে, স্ত্রী সামিরা এবং শাবনূরই প্রচণ্ড ভালোবাসতেন সালমান শাহ। এ কারণে শাবনূরকেও বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এই চিত্রনায়ক।

কিন্তু সামিরা তাতে রাজি হননি। সতীনের সংসার করতে রাজি ছিলেন না সালমানের স্ত্রী সামিরা। এসব কারণে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয় নব্বই দশকের শীর্ষ নায়কের। আর এটাকে বলা হয়েছে সালমান শাহের আত্মহত্যার দ্বিতীয় কারণ।

সালমান শাহ আত্মহত্যার তৃতীয় কারণ হিসাবে পিআইবি জানিয়েছে, এর আগে আরও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন সালমান শাহ। এছাড়া মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে বেশ অভিমানী হয়ে উঠেন এই চিত্রনায়ক।

সবশেষ কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাক্তিজীবনে সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা ছিল সালমান শাহের। সালমান শাহ আত্মহত্যার পিছনের এই ৫টি কারণ উল্লেখ্য করেছে পিবিআই।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলায় অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন সালমান। তার পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন হলেও সিনেমার পর্দায় তিনি ছিলেন শুধুই সালমান শাহ।

সালমান শাহ ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটক দিয়ে অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন। এরপর বেশ কিছু নাটকে অভিনয়ও করেছেন সালমান। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান সালমান শাহ।

মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করে নিজের প্রথম 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমায় সাড়া ফেলেন। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি সালমান শাহকে, চলচ্চিত্র জীবনে ছুঁয়ে গেছেন জনপ্রিয়তার সবটুকু আকাশ। শাবনূরের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন ১৪টি সিনেমায়। উপহার দিয়েছেন বাংলা সিনেমার অন্যতম সেরা সময়।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর শুক্রবারের সকালে রহস্যজনক এক কারণে জীবন সংসারের ইতি টানেন সালমান শাহ। রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি।

অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। এরপর প্রায় ১৫ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটি এরপর র‍্যাব তদন্ত করে। তবে র‍্যাবেরদ্বারা তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করে।

২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‍্যাবকে মামলাটি আর না তদন্ত করার আদেশ দেন। তারপর মামলাটির তদন্তভার যায় পিবিআইয়ের হাতে। দীর্ঘ তদন্তের পর সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পিবিআই এ তথ্য জানাল।

বিজনেস আওয়ার/২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে