করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৪৯
১৯
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
১৭৭
৭৪১০৩০
৩৫১১৪

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬


এনামুল-রূপনের বাড়ি যেন টাকার গোডাউন

০১:১৮পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক :রাজধানীর পুরান ঢাকায় ওয়ারী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা সেই দুই ভাই এনামুল-রূপনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ফের নগদ ২০ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এছাড়া পাঁচ কোটি টাকার এফডিআরও পাওয়া গেছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৫ বস্তা ১ হাজার টাকার নোট বিভিন্ন ভোল্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া খোঁজ মিলেছে স্বর্ণালংকার ও ক্যাসিনো সরঞ্জাম। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়া। দুই ভাইয়ের এ বাড়িটি ছিল টাকার গোডাউন।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত থেকে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, গভীর রাতে পুরান ঢাকার ১১৯ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে এনামুল ও রূপন ভূঁইয়ার বাড়িতে অভিযান শুরূ করে র‌্যাব। পাঁচতলা বাড়িটির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ওই ২০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।

লোহার ভল্টের মধ্যে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডেলগুলো থরে থরে সাজানো ছিল। ফ্ল্যাটের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি কক্ষ থেকে পাঁচটি ভল্ট থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এনামুল ও রূপনের নামে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর, বেশকিছু স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি সুজয় সরকার জানান, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ারীর ওই বাসার ভল্টে রক্ষিত প্রায় ২০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে টাকাগুলো গণনার কাজ চলছে।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল ও রূপনদের গেণ্ডারিয়ার বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব। সে অভিযানে চারটি ভল্ট ভেঙে নগদ এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও ৭৩০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছিল।

গত সেপ্টেম্বরে শুরূ হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকেই আলোচনায় আসেন দুই ভাই এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়া। অভিযানের পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। অবশেষে গত ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর অদূরে কেরাণীগঞ্জ থেকে এনামুল ও রূপনকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এনামুল ও রূপন গত ছয় থেকে সাত বছরে পুরান ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন কমপক্ষে ১২টি। ফ্ল্যাট কিনেছেন ছয়টি। এ দুই ভাইয়ের মূল পেশা জুয়া। জুয়ার টাকায় এনামুল ও রূপন কেবল বাড়ি ও ফ্ল্যাটই কেনেননি, ক্ষমতাসীন দলের পদও কিনেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে এনামুল গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং রূপন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নেন। তাদের পরিবারের পাঁচ সদস্য, ঘনিষ্ঠজনসহ মোট ১৭ জন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগে পদ পান। সরকারি দলের এসব পদ-পদবিকে জুয়া ও ক্যাসিনো কারবার নির্বিঘ্নে চালানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে সরকার ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরূ করে র‌্যাব।

বিজনেস আওয়ার/২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

ব্যক্তি উদ্যোগে যুবলীগ নেতার সহযোগিতা
বেতনের টাকায় খাবার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ

উপরে