করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
১৬৪
৩৩
১৭
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৩,৪৯,৮৭৭
৭৪,৮২০
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬


একজন পরমাণু বিজ্ঞানী, বাংলাদেশের প্রাপ্তি!

১২:৩৮পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রায় অর্ধশতাব্দী অতিক্রম করছে। আমরা নিজেদের কাছে প্রশ্ন করলেই উত্তরটা পাবো প্রাপ্তি কতটুকু। প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির সমন্বয়ের ফলাফল কি?যদি প্রশ্ন করা হয় কেন কাঙ্খিত সফলতা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারেনি! তাহলে অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর হতে পারে তারমধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উত্তর হচ্ছে যথাযথ নেতৃত্বের অভাব অর্থাৎ যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ও যোগ্য মানুষদের মূল্যায়ন না করা।

আমি আসলে আজকে আলোচনা করতে চাচ্ছি একজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে নিয়ে, দেখা গিয়েছে যিনি কিনা তার লেখা বই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ফটোকপি করে বিক্রি করে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ভাইরাল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ফেরি করে বই বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বইয়ের বিভিন্ন স্টলে যাচ্ছে, কেউ কেউ হয়তো কিনছে কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা আজ কত উদাসীন ব্যর্থ একজন সফল, জ্ঞানী, বয়োবৃদ্ধ, স্কলার ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করতে পারছিনা তাকে দেখছি রাস্তায় হকারি করে বই বিক্রি করতে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন গণমাধ্যম বিষয়টি জনসম্মুখে নিয়ে আসে সাক্ষাৎকারে 'ডক্টর ফজলুর রহমান আল সিদ্দিক' বলেন অনেক প্রকাশকের কাছে গিয়েছি আমার বই প্রকাশের ব্যাপারে, তারা তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি কি করব আমি বাধ্য হয়ে নিজেই ফটোকপি করে বিক্রি করার চেষ্টা চালাচ্ছি।

তিনি তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছেন তিনি বাংলাদেশ পরমানবিক কমিশনে চাকরি করতেন বর্তমানে অবসরে। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করেছেন, স্টিফেন হকিং, বাংলাদেশের ডঃ ওয়াজেদ মিয়া সহ পৃথিবীর অসংখ্য নামিদামি পরমাণু বিজ্ঞানীদের সাথে তার ছিল সখ্যতা। তিনি যে শুধু একজন পরমাণুবিজ্ঞানী তা নয় তিনি একজন দেশ প্রেমিক, দেশাত্মবোধের যে মমতা ও উপলব্ধি তার কথাতেই পরিষ্কার বোঝা যায়।

দেশের আগামী প্রজন্ম কি শিখবে? কেন শিখবে? কিভাবে শিখবে? সেটা নিয়ে তিনি ভাবেন! তিনি তার কথা বলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্য আমাদের এমন একজন বিজ্ঞানী দেশ প্রেমিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মনা জ্ঞানী ব্যক্তিকে চিনতে, মানুষকে চেনাতে, জাতির সামনে উপস্থাপন করতে, দেশের কল্যাণে তার অর্জিত মেধাকে কাজে লাগাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি আরো বলেছিলেন, শুধু আমাদের জয় নিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠলে হবে না। আমাদেরকে ব্যর্থতা গুলো চিহ্নিত করতে হবে, ব্যর্থতার কারণ গুলো অনুসন্ধান করতে হবে, ব্যর্থতা গুলো কেমন ভাবে সফলতায় রূপান্তর করা যায় সেগুলো আয়ত্ত করতে হবে! এই বয়সেও তিনি মনে করেন পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকবেন কাজ করে যেতে চান। অনেক পরে হলো যে বাংলাদেশের মানুষের নজরে তিনি এসেছেন কিছু কিছু প্রকাশনী এখন তাঁর লেখা বই ছাপাচ্ছে এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

জ্ঞানীগুণী মানুষের কদর কমে গেলে, সেই দেশ তার স্বাধীনতার সফলতা ভোগ করতে পারে না। স্বাধীনতার প্রাপ্তি অনেক অংশে হারিয়ে যায়। জ্ঞানী লোকদের জ্ঞানের আলো সমাজে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সকল মানুষ যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করবে, এমন প্রত্যাশাই হোক আমাদের আগামী দিনের পথ চলা।

লেখক- সবুর মিয়া, বেসরকারি চাকরিজীবী।

বিজনেস আওয়ার/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে