ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬


চাপের মুখে দুর্বল ব্যাংকগুলো

০৬:২৮পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : ঋণের ক্ষেত্রে সব ব্যাংকে অভিন্ন সুদহারের নির্দেশনা কার্যকর করতে হলে কমাতে হবে আমানতের সুদহার। এতে করে বেশি চাপে পড়বে দুর্বল ব্যাংকগুলো। তারাই এখন বেশি দুশ্চিন্তায়। আমানতের সুদহার প্রায় একই রকম হওয়ায় অনেকে এখন দুর্বল বলে পরিচিত কোনো ব্যাংকে টাকা রাখতে চাইবেন না। নানা কারণে ঋণ নিতেও অনেকে তুলনামূলক ভালো ব্যাংকের দিকে ঝুঁকবেন।

ব্যাংকাররা জানান, দুর্বল ও নতুন ব্যাংকগুলো গ্রাহক আকর্ষণে সব সময়ই আমানতে তুলনামূলক বেশি সুদ প্রস্তাব (অফার) করে। আবার কমপ্লায়েন্সের ঘাটতি থাকা যেসব গ্রাহক ভালো ব্যাংকে ঋণ পান না, তাদের মাঝে একটু বেশি সুদে ঋণ দেয়। এভাবে ঋণ ও আমানতের সুদহারে সমন্বয় এনে মুনাফা করেন তারা।

তবে ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে নতুন ও দুর্বল ব্যাংকের বাইরে ব্যাপক চাপে পড়বে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে বেশি ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলো।

জানতে চাইলে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি আনিস এ খান বলেন, ঋণের সুদহার কমাতে গিয়ে আমানতের সুদহার কমাতে হবে। এতে করে ব্যাংকগুলো লোকসানে পড়বে। তাদের আমানত কমবে। বেশি ঝামেলায় পড়বে নতুন ও দুর্বল ব্যাংকগুলো। কেননা বেশি সুদের আশায় অনেকে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির (এমএলএম) খপ্পরে পড়তে পারে। ব্যাংক থেকে টাকা চলে গেলে তখন বিনিয়োগ কমে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, সবার জন্য একই রকম সুদহার প্রযোজ্য হতে পারে না। বিশ্বব্যাপী গ্রাহকের ঋণমান ও লেনদেনের আগের তথ্য পর্যালোচনা করে সুদহার নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে যারা খারাপ তাদের থেকে একটু বেশি সুদ এবং রেটিং ভালোদের থেকে কম সুদ নেওয়া হয়।

ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির মূল্যায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

যাকে ক্যামেলস রেটিং বলা হয়। সর্বশেষ গত জুনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ‘প্রান্তিক’ পর্যায়ে রেটিং পাওয়া ব্যাংক রয়েছে ১০টি। ৯টি ব্যাংকের অবস্থা মোটামুটি ভালো। বাকি ৩৮টি ব্যাংকের অবস্থা সন্তোষজনক। তবে দেশের কোনো ব্যাংক শক্তিশালী ক্যাটাগরিতে নেই।

দেশে বর্তমানে ৬০টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে দেওয়া হয়েছে ১৩টি ব্যাংক। তবে নতুন ব্যাংকের মধ্যে পদ্মা ছাড়া কোনো ব্যাংক প্রান্তিক পর্যায়ে না থাকলেও এসব ব্যাংক এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বড় কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট লাইন পায়নি। যে কারণে এসব ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য খুব কম। ফলে ঋণের বাইরে এলসিসহ বিভিন্ন কমিশন আয় হয় খুব সামান্য।

২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঘুরেফিরে পুরোনো ব্যাংকের গ্রাহকদের নিয়েই তারা কাজ করেন। এসব গ্রাহক আকর্ষণে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সুবিধা অফার করেন তারা।

বিশেষ করে আমানতকারীদের একটু বেশি সুদ অফার করা হয়। তবে এখন সব ব্যাংকের জন্য অভিন্ন সুদহারের নির্দেশনার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকবে না। এমন পরিস্থিতিতে আমানত সংগ্রহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা না মেনে তো তাদের উপায় নেই।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারিসহ সব ধরনের শিল্প, গাড়ি, বাড়ি, আবাসনসহ কোনো ঋণে আর সিঙ্গেল ডিজিটের বেশি সুদ নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। এর মাধ্যমে দেশে আবার নিয়ন্ত্রিত সুদহার ব্যবস্থা চালু হলো। এর আগেও নিয়ন্ত্রিত সুদহার ছিল।

তবে ১৯৮৯ সালে ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও সব ব্যাংকের দাবি ছিল, ভোক্তা ঋণ, ক্ষুদ্র এবং এসএমই ঋণকে ৯ শতাংশ সুদহারের বাইরে রাখা হোক।

জানতে চাইলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নির্দেশনার আলোকে তারা ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবেন। তবে এসএমই ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ে এ নির্দেশনার বাইরে রাখা হলে তাদের জন্য সুবিধা হতো।

বিজনেস আওয়ার/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০/আরআই

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে