ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


গড় শেয়ার দরে কমিশন ১০ টাকা এগিয়ে থাকলেও যোগ্য বিনিয়োগকারীরা পিছিয়ে ১১ টাকা

১২:১৬পিএম, ০১ মার্চ ২০২০

রেজোয়ান আহমেদ : বর্তমান চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯১টি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এরমধ্যে ইস্যু ম্যানেজারের সহযোগিতায় কমিশনের মাধ্যমে দর নির্ধারিত হয়ে আসা ৮৪টি কোম্পানির শেয়ার ইস্যু মূল্যের থেকে গড়ে ১০ টাকা বেশিতে অবস্থান করছে। আর যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত দামের ৭ কোম্পানি গড়ে ১১ টাকা নিচে অবস্থান করছে। শেয়ারবাজারের বৃহৎ স্বার্থে আসন্ন নিলামগুলোতে তাদের এই অযোগ্যতা কাটিয়ে উঠা দরকার বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলামে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারনে অংশগ্রহনকারীদেরকে যোগ্য বিনিয়োগকারী বলা হলেও অতিতে তাদের অযোগ্যতাই ফুটে উঠে। তাদের মূল্যায়িত প্রায় সব শেয়ার দর এখন কাট-অফ প্রাইসের নিচে। তারপরেও সেইসব যোগ্য বিনিয়োগকারীরা এখন ওইসব শেয়ারে আগ্রহ দেখায় না। অযোগ্যতা ও কারসাজির মাধ্যমে অতিতে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারন করায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অযোগ্যতা এবং অসৎ উদ্দেশ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নিলামে একটি কোম্পানির উচ্চ দর প্রস্তাব করে। তারপরেও সাধারন বিনিয়োগকারীদের অসাবধানতার কারনে লেনদেনের শুরুতেই তারা মুনাফা তুলে নিতে পারে। আর তারা যেহেতু জানে কাট-অফ প্রাইস অতিমূল্যায়িত হয়েছিল, তাই সেকেন্ডারিতে কম দরেও ওই শেয়ারে আগ্রহ দেখায় না।

বাজার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, কোম্পানিগুলো শুরুতেই কোন ইস্যু ম্যানেজার প্রতিষ্ঠান কত বেশি কাট-অফ প্রাইস করে দিতে পারবে, তা নিয়ে এক প্রকার নিলাম করে। পরবর্তীতে সেখানে সর্বোচ্চ কাট-অফ প্রাইস করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া ইস্যু ম্যানেজারকে নিয়োগ দেয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এরপরে আশ্বাস দেওয়ার আলোকে মাঠে নামে ওই ইস্যু ম্যানেজার। তারা এক্ষেত্রে কয়েকটি যোগ্য বিনিয়োগকারীর সাথে বৈঠক করে নির্ধারন করে, কে কি দরে প্রস্তাব করবে। এক্ষেত্রে ওইসব যোগ্য বিনিয়োগকারীকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়ার খবর বাজারে আছে। যা অতিতে ঘটেছে।

আরও পড়ুন.....

ওয়ালটনের বিডিং শুরু কাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, যাদেরকে ইলিজিবল বা যোগ্য বিনিয়োগকারী বলা হচ্ছে, এরা আসলে যোগ্য না। বিডিংয়ে এরা পাতানো ম্যাচ খেলে। তাই সবার আগে যোগ্য বিনিয়োগকারী খুজে বের করতে হবে অথবা তাদের অযোগ্যতা কাটিয়ে তুলতে হবে।

খায়রুল হোসেনের নেত্বতাধীন কমিশনের বিগত ৯ বছরে আইপিও অনুমোদন দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার একই গ্রুপের সামিট পাওয়ারের সঙ্গে একীভূতকরন হয়েছে। যাতে এখন আর সামিট পূর্বাঞ্চলের অস্তিত্ব নেই। বুক বিল্ডিং ছাড়া বাকি ৮৪টি কোম্পানির গড় ইস্যু মূল্য ১৯.৩৫ টাকা। যার বাজার দর রয়েছে ২৯.০৮ টাকা। এ হিসাবে গড়ে প্রতিটি কোম্পানির দর ইস্যু মূল্যের থেকে ৯.৭৩ টাকা বা ৫০ শতাংশ বেশিতে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে ২০১৫ সালের পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের পরে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৭টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে এসেছে। যেগুলোর ইস্যু মূল্য নির্ধারন এককভাবে ছিল যোগ্য বিনিয়োগকারীদের হাতে। এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসির কোন ভূমিকা ছিল না। কিন্তু সেই যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়িত ৭টি কোম্পানির মধ্যে ৫টি বা ৭১ শতাংশ কোম্পানি ইস্যু মূল্যের নিচে অবস্থান করছে। তাদের গড় ৫৬.২৮ টাকা ইস্যু মূল্যের শেয়ার দর বর্তমানে অবস্থান করছে ৪৪.৮৭ টাকায়। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ১১.৪১ টাকা বা ২০ শতাংশ।

এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ম্যানেজ করা বসুন্ধরা পেপার মিলসের নিলামে প্রতিটি শেয়ার সর্বোচ্চ ৯০ টাকা করে কেনার জন্য দর প্রস্তাব করে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা। তবে সবচেয়ে বেশি ৩৬৬জন প্রতিটি ৮০ টাকা করে কেনার জন্য দর প্রস্তাব করে। যে দরটি কাট-অফ প্রাইস হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এই দরে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ৭৬০ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার কিনতে চেয়েছিল। এবং এই দরেই যোগ্য বিনিয়োগকারীরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ১২৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল। কিন্তু বর্তমানে শেয়ারটি ৫১ টাকার নিচে অবস্থান করলেও যোগ্য বিনিয়োগকারীরা তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

নিমেন্ যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নির্ধারিত কাট-অফ প্রাইস ও ২৯ ফেব্রুয়ারির শেয়ার দর তুলে ধরা হল-

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যোগ্যতা অনুযায়ি অনেক কোম্পানির যথার্থ দর নির্ধারন হয় না। অনেকে এই পদ্ধতিটি অপব্যবহারের মাধ্যমে কাট-অফ প্রাইস অতিমূল্যায়িত করছে। যে কারনে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার দর কম হলেও যোগ্য বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখায় না। এটা দুঃখজনক।

নিম্নে বর্তমান কমিশনের অনুমোদন দেওয়া আইপিওর ইস্যু মূল্য (বুক বিল্ডিং ব্যতিত) ও ২৯ ফেব্রুয়ারির বাজার দর তুলে ধরা হল-

আসন্ন নিলামে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধনীর কারনে কারসাজি করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা যে দরেই প্রস্তাব করতো না কেনো, সবাই কাট-অফ প্রাইসে বা একই দরে শেয়ার কিনত। তবে ওয়ালটন থেকেই প্রস্তাবিত দরে শেয়ার কিনতে হবে যোগ্য বিনিয়োগকারীকে। এক্ষেত্রে শেয়ার সর্বোচ্চ দর প্রস্তাবকারী থেকে বিতরন শুরু হবে, যা ক্রমানয়ে নিচের দিকে নামবে এবং যে মূল্যে বিতরন শেষ হবে, সেটাই কাট-অফ প্রাইস হবে।

উদাহরন স্বরুপ, একটি কোম্পানির ৫০ কোটি টাকার নিলামে প্রতিটি শেয়ারে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ক্রমানয়ে নেমেছে। এক্ষেত্রে নামতে নামতে যদি ১০০ টাকায় এসে ৫০ কোটি টাকার চাহিদা পূরণ হয়ে যায়, তাহলে কাট-অফ প্রাইস ১০০ টাকা। এখন যে ১৫০ টাকায় দর প্রস্তাব করেছে, তাকে ১৫০ টাকা করেই শেয়ার কিনতে হবে। আর যে ১০০ টাকায় দর প্রস্তাব করেছে, সে ১০০ টাকায় শেয়ার পাবে। তাই যোগ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দর প্রস্তাবে সচেতনতা আসবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজনেস আওয়ার/০১ মার্চ, ২০২০/আরএ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে ১৬ ব্যাংকের বিনিয়োগ
শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ছে

উপরে