করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৭০
৩০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
১৮১
১১৩১৭১৩
৬০১১৫
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬


বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫৮৩৫ জনের

১০:৩২এএম, ১৫ মার্চ ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনার প্রকোপে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। উৎপত্তিস্থল চীনে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণা করেছে করোনা। এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ৮শ' ৩৫ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৮ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় উহানসহ বেইজিংয়ে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ৩০ জন। উল্টোচিত্র চীনের বাইরের দেশগুলোতে। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থা উদ্বেগজনক। ইতালী ও ইরানের অবস্থ সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশ দুটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে রোববার (১৫ মার্চ) সংবাদমাধ্যম দ্য চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বিশ্বের ১৩২টি দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি ভাইরাসটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে বিধ্বস্ত ইতালি। খাবার দোকান থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলাধুলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার পরও থামছে না আক্রান্ত ও মৃতের মিছিল। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক না থাকায় দেশিয় কিছু সম্ভাব্য প্রতিষেধক দেশব্যাপী ছড়ালেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

শুক্রবার একদিনে আড়াইশো ব্যক্তির মৃত্যু হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ১৭৫ জন। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর কিছু প্রাণহানি কমেছে বলে অনেকে মনে করছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ৪৪১ জন দাঁড়ালো। তবে মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার বেড়েছে।

ভয়বাহ এমন পরিস্থিতি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও। লন্ডনে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুর পাশাপাশি স্পেনে ৮ বাংলাদেশি মরণ এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। থেমে নেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানও। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যান ৯৭ জন। আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭২৯ জনে।

এরপরই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে সেখানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে করোনা। এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের দেশে প্রায় ৮ হাজার ১৬২ আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৭৫ জন। এরপরই রয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিল্লির এক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই নারীর বয়স ৬৬ বছর। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এশিয়ার দেশটিতে এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হল।

অন্যদিকে, পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করোনা ভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্বই এখন কার্যত অচল। মুখ থুবড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। চলমান এ পরিস্থিতি উত্তরণে প্রতিষেধক তৈরির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া, ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ট্রেম্পের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ২০৬ জনে পৌঁছেছে। যেখানে মৃত্যু হয়েছে আরও ৮ জনের। এ নিয়ে সেখানে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

দ্রুত গতিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার হতে থাকায় গত ৩০ জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। ওই সময়ে সংস্থাটির প্রধান জানান, এর মাধ্যমে দুর্বল স্বাস্থ্য সেবার দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে নতুন করে আরও ২ জন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজন ইতালির, আরেকজন জার্মানি থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। দেশে আসার পর থেকেই তারা সঙ্গরোধে (হোম কোয়ারেন্টাইন) ছিলেন। সেখানে অসুস্থ হওয়ার তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে বিদেশফেরত ৩ কবাংলাদেশি সুস্থ হওয়ায় তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আর অন্যান্য দেশ থেকে ফেরা অন্তত দেড় হাজার নাগরিককে হোম কোয়ারেন্টাইন ও রাজধানীর আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। রোববার সকালেও দেড় শতাধিক ইতালি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। তাদেরকে পরীক্ষা করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার চিন্তা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিজনেস আওয়ার/১৫ মার্চ, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯৮৮৮৪ জন
করোনায় মৃত সাড়ে ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে

উপরে