করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
১৬৪
৩৩
১৭
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
২১১
১৩,৪৯,৮৭৭
৭৪,৮২০
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬


করোনা আতঙ্কে বিদ্যালয়ে কমছে উপস্থিতি

১১:১২এএম, ১৬ মার্চ ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের ভয়ে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমে যাচ্ছে। সন্তানকে নিরাপদে রাখতে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে যেতে দিচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নমনীয় আচরণ করছে। কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত হতে না চাইলে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সুত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার এ বিদ্যালয়ে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। তবে যারা ক্লাসে এসেছে তাদের মধ্যেও এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ভয়ে ভয়ে স্কুলে আসছি। অভিভাবকরা আসতে মানা করছে, অনেকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে স্কুলে আসতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানাই।

সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর প্রতিদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। আমরা করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছি। অভ্যন্তরীণ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রীদের সুস্থতার কথা চিন্তা করে যারা ক্লাসে আসছে না তাদের জোর করা হচ্ছে না।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ৬০ শতাংশের বেশি ছাত্রী অনুপস্থিত ছিল। সকাল শাখায় গড়ে ৩৫ শতাংশ ও বিকেলে ৪০ শতাংশ ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত হয়। দুই-তিনটি ক্লাসের পর কোনো কোনো অভিভাবক তার সন্তানকে বাড়ি নিয়ে যায়।

ভিকারুননিসার একাধিক অভিভাবক জানান, সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা আগে করতে হবে। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তৈরি হলেও সরকার এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছে। এ কারণে অনেকে তার সন্তানকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা পাঠাচ্ছেন তারাও দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকছেন। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া বলেন, অনেক অভিভাবক করোনা সংক্রমণের ভয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। এ কারণে গত এক সপ্তাহ থেকে ক্লাসে ছাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেকে সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন না বলে শিক্ষকদের ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে কেউ ক্লাসে না আসলে আমরা কাউকে বাধ্য করছি না। অনুপস্থিতির কারণে কারও কাছে জরিমানা নেয়া হবে না।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল সুত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস আতঙ্কে সকল ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। প্রতিটি ক্লাসে ৭১ জন করে শিক্ষার্থী থাকলেও সেখানে ১৫ থেকে ৩০ জন করে উপস্থিত আছে। এদিন শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধের নির্ধারিত দিন হওযায় উপস্থিতি একটু বেশি পাওয়া যায়। তাও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকে।

এই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র বলেন, বাবা-মা স্কুলে আসতে নিষেধ করলেও সিলেবাস থেকে পিছিয়ে না পড়তে এক-দুদিন পরপর স্কুলে আসছি। কখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাই সেই ভয় নিয়েই স্কুলে আসতে হচ্ছে। তাই জরুরিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত বলে মনে করি। নতুবা শিক্ষার্থীরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়বে বলে।

আইডিয়াল স্কুলের সামনে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক জানান, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারি ছড়িয়ে গেছে। আমাদের দেশেও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অথচ এখনও সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছে। ছোট ছেলেমেয়েরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার দায়ভার কে নেবে? সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের গত এক সপ্তাহ থেকে স্কুলে আসতে দিচ্ছেন না। সন্তানকে বাসায় রেখে মার্চ মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করতে তারা এসেছেন।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক ক্লাস শিক্ষক জানান, দেশে করোনা আক্রান্তের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে। যারা উপস্থিত হচ্ছে তাদের নিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে। তবে মার্চের টিউশন ফি পরিশোধের নির্ধারিত দিন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত হতে না চাইলে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে না।

এদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্কে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের জোরালো দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা স্কুল, কলেজ, মাদরাসা বন্ধের দাবি করেছেন। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিজনেস আওয়ার/১৬ মার্চ, ২০২০/এ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবি
শাহবাগে ফের বিক্ষোভ, কঠোর কর্মসূচীর হুঁশিয়ারি

উপরে