ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬


এতোদিন নামধারী যোগ্য বিনিয়োগকারীই ছিল বেশি

১২:৩৪পিএম, ১৮ মার্চ ২০২০

রেজোয়ান আহমেদ : এতোদিন নামধারী যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিডিং ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আধিপাত্য বিস্তার ছিল। যাদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নেই, শুধুমাত্র আইপিও ব্যবসা করত এবং শেয়ারবাজার থেকে মুনাফাসহ অর্থ নিয়ে চলে যেত। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিডিং ও আইপিওতে আবেদনের আগে শেয়ারবাজারে সর্বনিম্ন বিনিয়োগের সীমা বেধে দেওয়ায়, নামধারী যোগ্য বিনিয়োগকারীরা ঝড়ে পড়েছে।

২০১৫ সালে পাবলিক ইস্যু রুলস পরিবর্তনের মাধ্যমে কমিশন বিডিং ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) মার্চেন্ট ব্যাংকার্স, অ্যাসেট ম্যানেজার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, স্টক ডিলার, ব্যাংকস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, স্বীকৃত পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডকে যোগ্য বিনিয়োগকারীর নামে কোটা সুবিধা রাখে। এই সুযোগে অনেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ছাড়াই যোগ্য বিনিয়োগকারী হয়ে উঠে।

যোগ্য বিনিয়োগকারী হওয়ায় যেকোন কোম্পানির আইপিওতে শেয়ার পাওয়া নিশ্চিত। আর ফিক্সড প্রাইসের কোম্পানিগুলোতে মুনাফা নিশ্চিত হওয়ায় যোগ্য বিনিয়োগকারী হওয়ার আগ্রহ অনেকের বাড়ে। ফিক্সড প্রাইসের যেকোন কোম্পানিতেই লেনদেনের প্রথমদিনেই কয়েকগুণ মুনাফা করা সম্ভব হওয়ায় এই আগ্রহ বাড়ে। তবে সম্প্রতি বিএসইসি লেনদেনের প্রথমদিন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দর বাড়ার সীমা নির্ধারন করে দিয়েছে। এতে মুনাফার গতি কিছুটা কমেছে।

সম্প্রতি বিএসইসি যোগ্য বিনিয়োগকারী কোটায় বিডিং ও আইপিওতে আবেদনের জন্য সর্বনিম্ন বিনিয়োগ থাকার বাধ্যবাধকতা তৈরী করেছে। অবশ্য কমিশন এই বিনিয়োগের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিডিং ও আইপিও আবেদনের আগে ঠিক করে দেবে। যেমন ওয়ালটনের বিডিংয়ে অংশগ্রহনের জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের সর্বনিম্ন ১ কোটি টাকা সেকেন্ডারি মার্কেটে বাধ্যতামূলক করা হয়। আর এতেই যোগ্য বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।

দেখা গেছে, সম্প্রতি ওয়ালটনের বিডিংয়ে দর প্রস্তাব করেছেন ২৩৩ জন যোগ্য বিনিয়োগকারী। যার পরিমাণ এর আগের এডিএন টেলিকমের বিডিংয়ে ছিল ৬০০ জন। আর ফিক্সড প্রাইসের সর্বশেষ রিং সাইনের আইপিওতে ছিল ৬৪৫ জন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ছাড়া যোগ্য বিনিয়োগকারী হওয়াটা ছিল হাস্যকর। অযাচিতভাবে অনেক প্রভিডেন্ট ও পেনশন ফান্ড এই তালিকায় ঠুকে পড়েছিল। যারা শুধুমাত্র আইপিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আর মুনাফাসহ টাকা নিয়ে চলে যেত। তবে কমিশন এখন সর্বনিম্ন বিনিয়োগের পরিমাণ আরোপের মাধ্যমে সেই পথ রুদ্ধ করেছে।

নিম্নে সর্বশেষ কয়েকটি কোম্পানির আইপিওতে আবেদন করা যোগ্য বিনিয়োগকারীর তথ্য তুলে ধরা হল-

ওয়ালটনের বিডিংয়েও নামধারী বিনিয়োগকারীদের দর প্রস্তাব করার খবর পাওয়া গেছে। যারা বিডিং শুরু হওয়ার ৫ কার্যদিবস আগমুহূর্তে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ কোটি টাকায় উন্নিত করে এবং পরবর্তীতে দর প্রস্তাব করে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিডিং ও আইপিওতে প্রকৃত যোগ্য বিনিয়োগকারীদেরকে কোটা সুবিধা দেওয়ার জন্য সর্বনিম্ন বিনিয়োগের পরিমাণ ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করার কথা ভাবছে কমিশন। এছাড়া পুরো বছরের বিনিয়োগের গড় দিয়েও যোগ্য বিনিয়োগকারী নির্ণয়ের কথা ভাবছে কমিশন। এতে করে নামধারী যোগ্য বিনিয়োগকারী থাকলে, তারাও ঝড়ে পড়বে।

বিজনেস আওয়ার/১৮ মার্চ, ২০২০/আরএ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে ১৬ ব্যাংকের বিনিয়োগ
শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ছে

উপরে