ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬

নতুন সার্কিট ব্রেকার আরোপ

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিএসইসি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে

০৯:৫৭এএম, ২২ মার্চ ২০২০

বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস আতঙ্কে দিশেহারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন সার্কিট ব্রেকার নির্দেশনাটি যুগোপযোগি হয়েছে। যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দরকার ছিল। এই নির্দেশনার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, করোনাভাইরাসের কারনে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পানির দামে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিল। যা শেয়ারবাজারকে ভয়াবহ মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। এই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে নতুন সার্কিট ব্রেকার আরোপের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির তাড়াহুড়া থাকবে না। এর ফলে বেচা-কেনা কম হলেও ভালো বলে মনে করছেন তারা।

গত ১৮ মার্চ শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন। ওইসময় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় শেয়ার ও ইউনিটের দর পতনের সর্বনিম্ন সীমা বেধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপরেই গত ১৯ মার্চ বিএসইসি এ সংশ্লিষ্ট একটি নির্দেশনা জারি করে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে বিএসইসির সার্কুলারে বলা হয়, ১৯ মার্চ থেকে যেকোন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে সর্বশেষ ৫ কার্যদিবসের গড় ক্লোজিং দর দিয়ে। আর ওই দরের নিচে শেয়ারের দাম নামতে পারবে না। তবে দাম বাড়ার সীমার পূর্বের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে টাকা হারানোর সুযোগ নেই। বরং ওই নির্দেশনা দেওয়ার দিনই (১৯ মার্চ) বিনিয়োগকারীরা ফিরে পেয়েছে ২৩ হাজার ৩৫০ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা বা ৮.১৩ শতাংশ।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বিজনেস আওয়ারকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারনে বিনিয়োগকারীরা অতিমাত্রায় আতঙ্কিত ও শঙ্কিত হয়ে কম দামে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সার্কিট ব্রেকার নিয়ে নতু্ন নির্দেশনাটি দিয়ে কমিশন ঠিকই করেছে। এখন সর্বনিম্ন দর ঠিক করে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির তাড়াহুড়া থাকবে না। কারন এখন শেয়ার দর একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামবে না। কাজেই বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্তটি ঠিক আছে বলেই মনে করি।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে গত ৮ মার্চ থেকে দেশের শেয়ারবাজারে বড় পতন হয়। যাতে ৮ কার্যদিবসে (৯-১৮ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমে ৭৮১ পয়েন্ট বা ১৮ শতাংশ। এরমধ্যে আগের দিন বিকালে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগির খবর প্রকাশের পর ৯ মার্চ রেকর্ড ২৭৯ পয়েন্ট বা ৬.৫২ শতাংশ পড়েছিল। যা শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদেরকে ভাবিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতি উত্তোরনে গত ১৮ মার্চ বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এরপরেই জারি করা হয় সার্কিট ব্রেকারের নতুন নির্দেশনাটি। কিন্তু এই নির্দেশনা নিয়েও সমালোচনা করতে হবে তাই দুয়েকজন সমালোচনা করছেন। যদিও তারা শেয়ারবাজারের মন্দাবস্থা দূরীকরনে কোন সমাধানের রাস্তা দেখাচ্ছেন না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বিএসইসির সার্কিট ব্রেকার নিয়ে নতুন নির্দেশনাটি ভালো হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যেভাবে পানির দামে শেয়ার বিক্রি করছিল, তা এই নির্দেশনার মাধ্যমে থামানো গেছে। এর ফলে বেচা-কেনা কম হলেও ভালো। করোনাভাইরাসে যে অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরী হয়ে গিয়েছিল, তা এখন নতুন সার্কিট ব্রেকার আরোপের কারনে বন্ধ হয়ে গেল। এখন সময় বলবে সামনে কি করতে হবে।

বর্তমান পেক্ষাপটে সার্কিট ব্রেকারের নির্দেশনা ঠিক আছে জানিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আচরন খুব বেশি সংবেদনশীল ও যুক্তিহীন হওয়ায় নির্দেশনাটি দরকার ছিল। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা কাজ করছিল, তা এই নির্দেশনা না দিয়ে ঠেকানো যেতো না। এছাড়া বাজারের পতন যে আতঙ্ক তৈরী করছিল, বিএসইসির নির্দেশনায় অন্তত্ব সেটা বন্ধ হল। এটা খুবই দরকার ছিল।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন উর রশীদ বিজনেস আওয়ারকে বলেন, দর পতনের একটি সর্বনিম্ন সীমা নিয়ে সার্কিট ব্রেকার আরোপের মাধ্যমে খুব ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সার্কিট ব্রেকারের কারনে বাজার ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সবাই ভালো থাকবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা অনেক আতঙ্কিত হয়ে বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এতে মূল্যসূচক কমে যাচ্ছিল। কিন্তু শেয়ারবাজার বিনিয়োগের জায়গা এবং নিয়মিত বিক্রির জন্য না। তবে আশার কথা হলো নতুন সার্কিট ব্রেকার আরোপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক দূর হয়েছে।

বিজনেস আওয়ার/২২ মার্চ, ২০২০/আরএ

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে ১৬ ব্যাংকের বিনিয়োগ
শেয়ারবাজারে ধীরে ধীরে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ছে

উপরে