করোনাভাইরাস লাইভ আপডেট
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
৭০
৩০
সূত্র:আইইডিসিআর
বিশ্বজুড়ে
দেশ
আক্রান্ত
মৃত্যু
১৮১
১১৩১৭১৩
৬০১১৫
সূত্র: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য।

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬


অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন

০৫:১৩পিএম, ২৩ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বাড়তি কেনাকাটায় নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদামতো বাজারে সরবরাহ দিচ্ছেন না উৎপাদনকারীরা। আবার যা সরবরাহ হচ্ছে তা ঘাটতির কথা বলে অযৌক্তিক দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের পর পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও আলুর দাম কিছুটা কমে এলেও চাল ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী রমজান পর্যন্ত নিত্যপণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে নতুন ধান ওঠার আগে চালের ঘাটতি হবে না। এখন রাজধানীর বাজারে কেনাকাটা কমে এলেও চাহিদামতো পর্যাপ্ত চাল ও ভোজ্যতেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ তারা দাবি করছেন, পূর্ণ সক্ষমতায় পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশে চাহিদার চেয়ে ৩৫ লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। এর পর বাড়তি চাল রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জানুয়ারি চাল রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ ভর্তুকির প্রজ্ঞাপন জারি করে। যদিও ডিসেম্বরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আবার চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে মিল মালিকরা বলছেন, পর্যাপ্ত ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাহিদামতো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দোকানিরা বলছেন, সংকটের এ সময়ে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন মিল মালিকরা।

গত বুধবার সাংবাদিকদের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন, চালের কোনো সংকট নেই। বরং মজুত পর্যাপ্ত। প্রয়োজনে ওএমএসে চাল বিক্রি করা হবে। অযৌক্তিক দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়, যা আগের সপ্তাহে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা ছিল।

সরু মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে মোটা চালের দাম ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতেও ঢাকায় খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষকে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে মোটা চাল কিনতে হচ্ছে। খোলাবাজারে সর্বশেষ ৩০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রি হয়েছিল।

মিরপুর-১ বাজারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, গত পাঁচ দিন চালের বাড়তি চাহিদা থাকায় বিক্রি বেশি হয়েছে। এতে দোকানের চাল প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন মিলে চাল কেনার অর্ডার দিলে কবে তারা সরবরাহ করতে পারবে, সেটি নিশ্চিত করছে না।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন মানিক বলেন, সব কোম্পানির চাল পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ কারণে ক্রেতাদের চাহিদা মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চালের পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দামও বেশ চড়া। আগে বোতলজাত সয়াবিন তেল ৫ লিটার ৪৭০ থেকে ৪৯০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন তা বেড়ে ৫৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ বাজারের ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দুই কার্টন তেলের অর্ডার দিয়ে পাওয়া যায়নি। এক, দুই ও পাঁচ লিটার তেলের অর্ডার দিয়ে শুধু দুই লিটারের কয়েটি বোতল দিয়েছে একটি কোম্পানি। অন্য কোম্পানির তেল অর্ডার দিয়ে পাওয়া যায়নি।

কারওয়ান বাজারের সোনালি ট্রেডার্সের ভোজ্যতেলের পাইকারি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, গত তিন দিন ধরে একটি কোম্পানির কাছে অর্ডার দিয়েও তেল পাচ্ছেন না। গতকাল একটি কোম্পানি সামান্য পরিমাণে তেল দিয়েছে, তা চাহিদার চেয়ে কম।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, মিল থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। নিজস্ব গাড়ির বাইরে বাড়তি গাড়ি ভাড়া করে বাজারে ভোজ্যতেল দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানি তেলের দামে কোনো পরিবর্তন করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন এক হাজার ২০০ টন সরবরাহ করলেও এখন দেড় হাজার টন সরবরাহ করছেন তারা। এ অবস্থায় বাড়তি চাহিদার সুযোগে খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।

বিজনেস আওয়ার/ ২৩ মার্চ, ২০২০/কমা

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে