ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৪ চৈত্র ১৪২৬


শিল্পীরাই বুস্ট করে গানের ভিউ বাড়িয়ে দেয় : শুভ্রদেব

০৮:৪৯পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭

শিশির আহমেদ: ১৯৮৪ সালে ‘হ্যামেলিয়নের বাঁশিওয়ালা’ ক্যাসেট দিয়ে গানের ভুবনে প্রবেশ করেন শুভ্রদেব। অনেক জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি। সম্প্রতি বেরিয়েছে ‘ককটেল’ নামের অ্যালবাম। কেমন ছিল কাজের অভিজ্ঞতা জানালেন বিজনেস আওয়ার টুয়েন্টিফোর.কমকে

বিজনেস আওয়ার : কেমন আছেন?

শ্রভ্র: আমি খুব ভালো আছি ভাই। তুমি বেশ কবার ফোন করেছ, আমি সত্যি ব্যস্ত ছিলাম।

বিজনেস আওয়ার : আপনার সর্বশেষ অ্যালবাম বের হলো তিন বছর পর ‘ককটেল’; এটা নিয়ে বলুন?
শ্রভ্র: আমি তো অনেকদিন ধরে কাজ করছি। এবার চেয়েছি একটা আধুনিক গানের অ্যালবাম করতে। সবই আধুনিক। কিন্তু টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে আমি বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছি। ‘ককটেল’ আমার সর্বশেষ অ্যালবাম। এর কথা ও সুর আমার নিজের। অনেকদিন ধরে এর কাজটা করেছি আমি। গানের কথা ও সুরে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করেছি। সত্যিকারের আধুনিক গান করার জন্য কাজ করেছি। বিশেষ করে গানের মিউজিকে ভেরিয়েশন আনার জন্য আমার একটা বিশেষ মনোযোগ ছিল। আশার কথা হচ্ছে, মানুষ এই গানগুলো পছন্দ করছেন।

বিজনেস আওয়ার : এখানে সুর ও সংগীতে আমেরিকার কিছু ফিউশন ব্যবহার করেছেন?
শ্রভ্র: আমি তো মাঝে মাঝেই আমেরিকায় যাই। ওখানে গেলে তাদের গানের কনসার্ট এবং অনুষ্ঠান দেখার চেষ্টা করি। সুর ও সংগীতে তাদের যে ভেরিয়েশনের কাজ- সেটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি কেলি ফিকলারের একটা শো দেখি। পরে তাদের গ্রুপের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওদের স্ট্যান্ডার্ডটা অনেক হাই। খুব ভালো কাজ করে তারা। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছি।

বিজনেস আওয়ার : ‘এ মন আমার পাথর তো নয়’-গানটি নিয়ে বলুন...
শ্রভ্র: এই গানটি বাংলাদেশের ওয়ান অব দ্য হাইয়েস্ট ডাউনলোডেড গান। যখন গানটি করি, তখন তো আর বুঝি নাই, গানটা এত জনপ্রিয় হবে। গানটি লিখেছিলেন আহমেদ রিজভী। এটুকু বলতে পারি, আমি সিনসিয়ারলি গানটা করেছি এবং আমার এফোর্টটা ভালো মতো দেয়ার চেষ্টা করেছি। এখন তো গানের অ্যালবাম বের হয় না। ইউটিউবে গান রিলিজ হয়, নিজের খরচেই বুস্ট আপ করে কোটি ভিউয়ার শো করে। আমাদের সময়ে অ্যালবামের বিজ্ঞাপন বের হতো, লাখ কপি বিক্রি হয়ে যেত। আমার এই গানটির সুর ও সংগীত করেছিলেন প্রণব ঘোষ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন বড় মাপের সংগীত পরিচালক। কাজী হাবলু ভাইয়ের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয়। তিনি খুব মেধাবী মিউজিক ডিরেক্টর। কিন্তু প্রথমে তিনি আমাকে গান শুনে খুঁজে বের করেন। পরে বলেন যে, শুভ্র, আমার কাছে ভালো কিছু গান আছে, এসো। আমাদের কম্বিনেশনটা ভালো হয়েছিল।

বিজনেস আওয়ার : আপনি গানের মানুষ, কিন্তু অভিনয়েও বেশ কবার দেখা গেছে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে; যেমন ‘শ্রাবণ এসেছিল গান হয়ে’, ‘অন্য প্রাণের সুর’ নাটকে?
শ্রভ্র: আমি বেশ কয়েকটা নাটক ও টেলিছবিতে কাজ করেছি। প্রথমে করেছিলাম নারগিস আক্তারের ‘পাতালপুরীর গল্প’। এখানে আমার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন মাহফুজ আহমেদ। আপনি জানেন কিনা, জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে অনেক ছাত্র মারা গিয়েছিল। সেদিন টিভিতে ছাত্ররা আমার নাটক দেখছিল। পরে আমি নাটক করা ছেড়ে দেই। আরও অনেক পরে করেছি ‘শ্রাবণ এসেছিল গান হয়ে’। গানের মতো নাটকেও মানুষ আমাকে পছন্দ করেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে, নাটক করতে আমার ভালোলাগে না। করেছি অনুরোধে, সম্পর্কের টানে।

বিজনেস আওয়ার : গান নিয়ে আপনার এখনকার ভাবনা কী?
শ্রভ্র: এখন কিন্তু জেনুইন জিনিস কম। আগে এমন ছিল না। নিজেই অ্যালবাম করে বুস্ট আপ করে নিজের ভিউ বাড়িয়ে দেয়। আমি মনে করি, ভালো জিনিসটা করতে হবে। মানুষ সেটাই পছন্দ করেন। চারপাশের এসব ব্যাপার দেখে এটাই ভাবি।

বিজনেস আওয়ার : একজন শুভ্রদেবকে মানুষ যে আলাদাভাবে চেনে ও পছন্দ করে- এটা ভেবে কী অনুভূতি হয়?
শ্রভ্র: এটাকে আমি বলি, ঈশ্বর আশীর্বাদ। আমি খুবই ভাগ্যবান যে, এত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি আমার কাজটা করে গেছি, কিন্তু ঈশ্বরের দয়া ও আশীর্বাদ ছাড়া এটা সম্ভব হয় না। আমি খুবই এঞ্জয় করি এবং গভীরভাবে ফিল করি। মানুষের ভালোবাসা পেলে কার না ভালোলাগে বলুন। আমি খুবই আনন্দিত এবং হ্যাপি মানুষের ভালোবাসায়।


বিজনেস আওয়ার /শি.আ/ অ.মা

এই বিভাগের অন্যান্য খবর

উপরে