বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক : গত তিন বছরেও থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। কমিটি না করার পেছনে নিজেদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন নেতারা।

আগামী সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে ছাত্ররাজনীতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য মূল্যায়নের দাবি নেতাদের। এবারের সম্মেলনে হাইব্রিড ও অনুপ্রেবেশকারী ঠেকাতে আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। এরইমধ্যে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে দলটি।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলনও আগামী মাসেই করার নির্দেশনা রয়েছে। আগামী বুধবার দলের বর্ধিত সভায় আসতে পারে এ দুই শাখার সম্মেলনের তারিখ।

দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা থাকলেও গত তিন বছরে কমিটি গঠনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত বলেন, পার্টি অফিস থেকে কমিটিগুলোকে আমার কাছে আনা হয়নি আর আমাকে কেউ কোনো কপিও দেয়নি, বলেওনি তাই আমি এ সম্পর্কে আর কিছু বলতে পারি না।

তবে উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কথা না বললেও যুগ্ম সম্পাদকরা বলছেন, কয়েকটি থানায় কমিটি গঠন হলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপের কারণেই হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তবে আগামী সম্মেলনে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি তাদের।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাবিব হাসান জানান, যারা বিতর্কিত নয়, তাদের সমন্বয়ে অতীত কর্মকাণ্ড দেখে বিশ্লেষণ করে সুসংগঠিত করা এবং দলকে নেতৃত্ব দেয়া।

ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক কাদের খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও নেত্রী যেভাবে বলবেন আমরা সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেব। হয়তো জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলন শেষ হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থতার দায়ভার শুধু কেন্দ্রীয় নেতাদেরই নয়, মহানগর নেতাদেরও। দলের আদর্শ বিরোধী কাউকে আগামীতে নেতৃত্ব দেয়া হবে না বলেও জানান তারা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, যখনই দলীয় সাংগঠনিক কমিটির করার প্রশ্ন আসে তখন আমাদের নেতাদের একটা দায়িত্ব থাকে সব পর্যায়ে। এটা কেন্দ্রীয়ভাবে শত ভাগ নিশ্চিত করা খুবই কঠিন।

দলের সভাপতিরমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, যাদের নামে কিছু না কিছু নেগেটিভ শোনা যাবে, এ ধরনের নেতাদের বাদ দিয়ে লিডারশিপ করা হবে।

বিজনেস আওয়ার/২২ অক্টোবর, ২০১৯/এ