বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন করায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের চাপে এটা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে ইশরাক বলেন, ‘সম্পূর্ণ ফালতু একটা মামলা। আমার জনপ্রিয়তার যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে ধানের শীষের পক্ষে, এগুলো দেখে সরকারের নিশ্চয়ই কোনো চাপ ছিল। যার কারণে এ ধরনের একটা চার্জ গঠনের কথা আমি শুনেছি। আসলে আমি যখন এজলাসে ছিলাম তখন পুরোপুরি শুনতে পারিনি। শুনলাম চার্জ গঠনের জন্য একটা তারিখ ধার্য করেছে।’

ইশরাক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি একটু বিস্তারিত বলি, ২০০৮ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় তখন আমি ছাত্র। আমার বয়স জাস্ট সাড়ে ১৮ হবে, মাত্র প্রাপ্তবয়স্ক। তখন আমি ফাস্ট ইয়ারে পড়ি, তখন আমার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়। সেই নোটিশ, আমি আদৌ কোনো সময় পাইনি। তো সেই নোটিশের জবাবও আমি দেইনি।’

‘২০১০ সালে গিয়ে বিএনপি তখন তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে, সরকারবিরোধী আন্দোলন। আমার বাবা (সাদেক হোসেন খোকা) তখন ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তখন উনাকে চাপে ফেলার জন্য নোটিশের জবাব না দেয়ার একটা মামলা হয়। এর কিছুদিন পরে আমি তখনও দেশে আসিনি। তারপরে কী হয়েছে জানি না। কারণ, আমি তখন দেশে থাকতাম না। আমার বাবা ওটা হ্যান্ডেল করেছেন। পরবর্তীতে এটার ব্যাপারে কিছু শুনিনি।’

‘গত ২০১৮ সালে যখন আমি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য দেশে আসলাম, মনোনয়ন জমা দিলাম এবং ইসিতেও জমা দিলাম, তখন তড়িঘড়ি করে চার্জশিট তৈরি করল দুদক থেকে। তারপর থেকে হিয়ারিং চলছে। এখন আজকে যেটা হয়েছে আমি চ্যালেঞ্জ করে আসছি এ মামলাটি। এ মামলা চলতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারণ, যেই নোটিশ আমি রিসিভ করিনি। সেই নোটিশের জবাব আমি কোত্থেকে দেব? দ্বিতীয়ত, আমার সম্পদ চেয়েছে, আমি তো ২০১০ সাল থেকে টাক্স পে করি। তার বিবরণী কি সরকারের কাছে নেই? তারা কি এনবিআরের কাছ থেকে নিতে পারে না? আর ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের সময় আমি তখন আমার সম্পদের বিবরণী জমা দিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। এবারও জমা দিয়েছি। সো, এটা একটা হয়রানিমূলক। এটাতে আমি বিচলিত না।’

বিজনেস আওয়ার/১৬ জানুয়ারি,২০২০/আরআই