বিজনেস আওয়ার প্রতিবেদক :শেয়ার ও ইউনিট কেনা-বেচা করার জন্য ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে নতুন ট্রেক বিক্রির সুযোগ হয়েছে। এই ট্রেক পেতে স্টক এক্সচেঞ্জকে দিতে হবে ৬ লাখ টাকা। তবে ট্রেক নেওয়ার জন্য থাকতে হবে কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জে ২ কোটি টাকা জামানত দিতে হবে।

জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে এ খসড়া চুড়ান্ত করতে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মতামত চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। মতামতে খসড়ার কোন বিষয়ে আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। তবে ১০ দিন সরকারি ছুটির কারনে মতামত পাঠানোর জন্যও এই সময় বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সরকারি ছুটি ৪ এপ্রিল থেকে বাড়ানো হলে মতামত পাঠানোর জন্য সময় আরো বাড়ানো হবে।

কোম্পানি, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কমিশনের অনুমোদিত কোন প্রতিষ্ঠান স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক কিনতে পারবেন। এই ট্রেক পাওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা ফিসহ এক্সচেঞ্জে আবেদন করতে হবে। আর ৫ লাখ টাকা দিতে হবে নিবন্ধন ফি হিসেবে। অর্থাৎ ৬ লাখ টাকায় গ্রাহকদের পক্ষে শেয়ার বেচা-কেনা করে দেওয়ার ব্যবসা করতে ট্রেক পাওয়া যাবে। তবে এই ট্রেকের মালিক স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডার হবেন না। শুধুমাত্র শেয়ার ও ইউনিট বেচা-কেনা করার সুযোগ পাবেন। যে ট্রেকহোল্ডারকে প্রতিবছর ১ লাখ টাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে ফি দিতে হবে।

ট্রেক পাওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক নীরিক্ষিত নিট সম্পদের পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশের বেশি থাকতে হবে। আর স্টক এক্সচেঞ্জে ২ কোটি টাকা বা কমিশনের সময় সময় নির্ধারিত অর্থ জামানত হিসাবে রাখতে হবে। অর্থাৎ ৬ লাখ টাকায় ট্রেক পাওয়ার জন্য আরও কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা থাকতে হবে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ডিএসই থেকে ট্রেক বিক্রির জন্য কমপক্ষে পরিশোধিত মূলধন ৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে কমিশন তাদের প্রস্তাবের আলোকে পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ৩ কোটি টাকার পাশাপাশি জামানত হিসাবে ২ কোটি টাকা রাখার বিধিমালা করেছে। যা ডিএসইর প্রস্তাবে ছিল না। কমিশনের এই জামানতের বিধিমালার কারনে লাভবান হবে স্টক এক্সচেঞ্জ। কারন একটি ট্রেক যতদিন থাকবে, ততদিন ওই জামানতের টাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে থাকবে। যাতে ওই টাকা থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের সুদজনিত আয় হবে।এছাড়া নতুন ট্রেকহোল্ডারের গ্রাহকের লেনদেন নিষ্পত্তিতে (সেটেলমেন্ট) সমস্যা হলে ওই জামানতের অর্থ দিয়ে সমাধান করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

কোন প্রতিষ্ঠান ট্রেক পেলে তা হস্তান্তর করা যাবে না। আবার নিবন্ধন পাওয়ার এক বছরের মধ্যে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা ২০০০ অনুযায়ী স্টক-ডিলার বা স্টক-ব্রোকার’র সনদ নিতে হবে। এই সনদ নেয়ার ৬ মাসের মধ্যে ব্যবসা শুরু করতে না পারলে ট্রেক বাতিল হয়ে যাবে।

বিজনেস আওয়ার/২৫ মার্চ, ২০২০/আরএ